বিরল রোগে আক্রান্ত মীম

দিনমজুর বাবার আট বছরের মীমের শরীরে এখন কালো-কালো ছাপ। দেখে মনে হয় যেন ফোসকা পড়েছে। সেই ফোসকা পেকেহচ্ছে ঘা। আবার শুকিয়ে গিয়ে হচ্ছে কালচে রঙের ক্ষত। সারা শরীরের ব্যথায় ছটফট করে মীম। ফোসকাগুলো আগুনের মত জ্বালা করে তার শরীরে।

কিছুদিন থেকে চোখ দুটি আক্রান্ত হয়ে লালচে হয়ে গেছে। এতে করে বর্তমানে আলোরদিকে তাকাতে পারে না। ফলে হারাতে বসেছে চোখ দু’টো। অনেক চিকিৎসা করেও লাভ হয়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হবে তাকে। দিনমজুর বাবা চিকিৎসা করাতে পারছেন না। অন্যদিকে মেয়ের এমন অবস্থায় সারাক্ষণ কেঁদে অস্থির মা মরিয়ম বেগম।

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেড়ছড়া ইউনিয়নের কালিরহাট গ্রামের দিনমজুর জাহেদুল ইসলামের মেয়ে মীম। জন্মের পর দু’বছর বয়সের সময় হঠাৎ বিরল রোগ দেখা দেয় মীমের। পুরো শরীরেই দেখা দেয় ফোসকা। সেগুলো পরবর্তীতে গলে যায়। আস্তে আস্তে সারাশরীর তার ঢেকে যায় এ রোগে। উপজেলার ডাঙ্গিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মীম। কিন্তু গত ছয়মাস যাবৎ চোখে ঠিকমত দেখতে না পাওয়ায় সে স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।

মীমের মা মরিয়ম বেগম জানান, “ছয়-সাত আগে তাকে রংপুরে এক মহিলা চিকিৎসককে দেখানো হয়। তার দেয়া ওষুধ খাওয়ার পর অসুখটি বেড়ে যায়। সেটি এখন চোখ দিয়েও বের হচ্ছে। কানেও কম শুনতে পায়। ভাল করে কথাও বলতে পারছে না। শুধু কান্নাকাটি করে। আমি মা হয়ে সহ্য করতে পারছি না মেয়ের কান্না। অর্থের অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছি না। অনেকেই বলেছে ঢাকায় ভাল ডাক্তার দেখাতে। তাই ইউএনও স্যারের কাছে মেয়েকে নিয়ে গেছি সাহায্যের জন্য।”

বাবা জাহেদুল ইসলাম জানান, আমারা ওয়াপদা বাঁধের উপর থাকি। দিন আনি দিন খাই। এরমধ্যে ৫০-৬০ হাজার টাকা মেয়ের চিকিৎসা করতে গেছে। কিন্তু দিন দিন অসুখটা বেড়েই চলছে। আর চিকিৎসা করানোর ক্ষমতা নেই।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএইচএম মাগফুরুল হাসান আব্বাসী বলেন, এ রোগটিকে সোরিয়াসিস বলা হয়। এর চিকিৎসার জন্য লাখ লাখ টাকা প্রয়োজন। আমার কাছে মীমের মা একটি আবেদন নিয়ে এসেছে। আমরা সামান্য কিছু হয়তো দিতে পারবো।

মোঃ মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি