লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের শেয়ার দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে

ডিএসই জানিয়েছে, কোম্পানিটির শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনের কারণ জানতে চেয়ে রোববার (১০ ডিসেম্বর) নোটিশ পাঠানো হয়। এর জবাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে- সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের যে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে তার জন্য তাদের কাছে অপ্রকাশিত কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।

দেড় বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের শেয়ার দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। কোম্পানির তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে কোম্পানিটি জানিয়েছে, মেইনটেন্যান্সের (রক্ষণাবেক্ষণ) কারণে বর্তমানে লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত এ উৎপাদন বন্ধ থাকবে। এ জন্য শেয়ারহোল্ডাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করার জন্যও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ অনুরোধ জানিয়েছে।

তথ্য পর্যালোচনা দেখায় যায়, গত ৫ ডিসেম্বর থেকে লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের শেয়ার দাম টানা বাড়ছে। শেষ ৩ কার্যদিবসে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ১২ টাকা ৬০ পয়সা। গত মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৪৮ টাকা ৫০ পয়সা। যা টানা বেড়ে রোববার লেনদেন শেষে দাঁড়ায় ৬১ টাকা ১০ পয়সা।

এদিকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডাদের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সর্বশেষ হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ১১ পয়সা। অথচ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাস) কোম্পানিটির ইপিএস ছিল মাত্র ৬ পয়সা।

উৎপাদন বন্ধ থাকার পরও শেষ তিন মাসে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৫ পয়সা মুনাফা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও প্রশ্ন জেগেছে। ৩০ জুন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১৮ টাকা ৭৫ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ছিল মাইনাস ৩ পয়সা।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের মোট শেয়ারের ৩০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৫৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ এবং বিদেশিদের কাছে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।