শীতের শুরুতেই বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসবের ষষ্ঠ আসর

এক সময় শীতের শুরুতেই গ্রাম আর শহরের অলি-গলি আর পথে দেখা যেত বিভিন্ন কনসার্টের হিড়িক। শহর মেতে উঠতো উৎসবে। সারা দিনব্যাপী চলতো গানের সেই জমজমাট আয়োজন। তবে একটু রাত হলেই সমাপ্তি টানতে হত। তবে সেই চিত্রটার পরিবর্তন ঘটেছে গত কয়েক বছর ধরে। শহুরে উৎসবমুখর মানুষের সংগীত শ্রবণ করার অভিজ্ঞতাতে এসেছে পরিবর্তন।

রাতভর নির্ঘুম থেকে সংগীত পিপাসুরা দল বেঁধে উপভোগ করছে সংগীতসুধা। তারই রেশ ধরে দেশ-বিদেশের গুণী সঙ্গীতজ্ঞ ও নৃত্য দলগুলোর অংশগ্রহণে আবারও র্পদা উঠবে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় সংগীত উৎসবের। আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত পাঁচদিনের উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব-২০১৭ অনুষ্ঠিত হবে প্রদীপের আলোকচ্ছটায়। উপমহাদেশের প্রথম সারির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিল্পীর অংশগ্রহণে এবং দর্শক সংখ্যা বিচারে এই উৎসব পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উচ্চাঙ্গসংগীত আসর হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এবারের সংগীত উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে এমিরেটস প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামানের নামে।

ব্রাক ব্যাংকের সহযোগিতায় এবং স্কয়ার নিবেদিত এবারের উৎসবের সম্প্রচার সহযোগী হিসেবে থাকছে চ্যানেল আই। সঙ্গীত সবসময় বৈশ্বিক। সঙ্গীতের কোনো দেশ নেই, ভাষা নেই। এ জন্যই সমজদার শ্রোতা সব ধরনের সঙ্গীতের স্বাদ নিতে চান। নতুন প্রজন্মের কাছে উচ্চাঙ্গসংগীতের এক ভিন্ন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে এই আয়োজনটি। যেখানে দেশ-বিদেশের অনেক গুণী সঙ্গীতজ্ঞ ও নৃত্য দলগুলোর অংশগ্রহণ থাকে। এই উৎসবটির মধ্য দিয়ে দিয়ে শহরের সংস্কৃতিপ্রেমীদের মাঝে নতুন এক চর্চা শুরু হয়েছে। ক্লাসিক্যাল মিউজিক বা ক্লাসিক্যাল নৃত্যের ভক্তও তৈরি হচ্ছে এই আয়োজনটির মধ্য দিয়েই। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আবাহনী মাঠে ষষ্ঠবারের মত শুরু হচ্ছে এই উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের উৎসব। তবে এবার উপমহাদেশের শুধু শাস্ত্রীয় সংগীতই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওয়ের্ন্টান ক্লাসিক্যাল। উৎসবটি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলবে। উৎসবের প্রথম দিন সন্ধ্যা ৭টায় কাজাখস্থান থেকে আসা ৫৮ সদস্যের আস্তানা সিম্ফনি ফিলহারমনিক অর্কেস্ট্রার সঙ্গে গ্রামী-মনোনীত প্রখ্যাত বেহালা শিল্পী পদ্মভূষণ ড. এল সুব্রহ্মণ্যনের যুগল-বাদন পরিবেশিত হবে। পাচঁদিনের এই মহোৎসবে আরো থাকবেন মেওয়াতি ঘরানার প্রবাদপ্রতীম শিল্পী পদ্মভূষণ পণ্ডিত যশরাজ (খেয়াল) ,পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভট্ট(মোহনবীণা), বিদুষী কালা রামনাথ(বেহালা), পদ্মভূষণ বিদ্বান ভিক্কু বিনায়করাম(ঘাটম), ওডিশি নৃত্যশিল্পী সুজাতা মহাপাত্র, পণ্ডিত বুধাদিত্য মুর্খাজী(সেতার), পণ্ডিত কৈবল্যকুমার গুরভ(খেয়াল), সাসকিয়া রাও(চেলো) এবং কথক নৃত্যদল অদিতি মঙ্গলদাস ডান্স কোম্পানি প্রমুখ। এদের সাথে মঞ্চ আলোকিত করবেন বিদুষী পদ্মা তলওয়ালকার(খেয়াল), পণ্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার(সরোদ), ড. মাইসোর মঞ্জুনাথ (বেহালা), পণ্ডিত রনু মজুমদার(বাঁশি), পণ্ডিত কুশল দাস(সেতার), পণ্ডিত দেবজ্যোতি বোস(সরোদ), রাকেশ চৌরাসিয়া(বাঁশি), পূর্বায়ণ চট্টোপাধ্যায়(সেতার), রাজরূপা চৌধুরী(সরোদ), আবীর হোসেন(সরোদ) প্রমুখ। এই আয়োজনের মধ্যমনি হিসেবে থাকবেন পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা, পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া,পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী,ওস্তাদ রাশিদ খান, পণ্ডিত উল্লাস কশলকার, ওস্তাদ শাহিদ পারভেজ খান প্রমুখ। তবলায় সঙ্গত করবেন পণ্ডিত অভিজিৎ ব্যানার্জি, পণ্ডিত শুভঙ্কর ব্যানার্জি, পণ্ডিত যোগেশ সামসি প্রমুখ। বিদেশী শিল্পী ছাড়াও বাংলাদেশের পাঁচজন প্রতিভাবান নবীন নৃত্যশিলপী স্নাতা শাহরিন, সুইটি দাশ, অমিত চৌধুরী, সুদেষ্ণা শ্যামাপ্রভা ও মেহরাজ হক তুষারসহ সরকারী সংগীত বিদ্যালয়, পরম্পরা সংগীতালয়ের ছাত্রছাত্রীবৃন্দ এবারের উৎসবে অংশগ্রহণ করবেন।

রবিবার গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সংগীত উৎসবের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত লুভা নাহিদ, আবুল খায়ের লিটু, অঞ্জন চৌধুরী ও জারা জাবীন মাহবুব।

জানা যায়, উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বিশেষ অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এমপি, আবাহনী লিমিটেডের সভাপতি সালমান এফ রহমান এবং স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক অঞ্জণ চৌধুরী।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আজ রবিবার ষষ্ঠবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে এই উৎসব সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। গেল পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত শাস্ত্রীয় সংগীতের এই অনুষ্ঠানটি রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে হয়ে আসলেও এ বছর ভেন্যু না পেয়ে প্রথমে বাতিল হয় উৎসব। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে আয়োজনটি ঘিরে বিদেশী শিল্পীদেরও দাওয়াত দেয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ সময়ে এসে আর্মি স্টেডিয়ামে জায়গা না পাওয়ায় অনুষ্ঠানের ষষ্ঠ আসরটি বাতিল করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জানানো হয় গত ১৪ নভেম্বর বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এই উৎসবের জন্য আবাহনী মাঠের বরাদ্দপত্র পেয়েছে। তবে সুখবর হচ্ছে, এই উৎসবে মূল পরিকল্পনার সব শিল্পীই অন্তিম মুহূর্তের ডাকে সাড়া দিয়ে ঢাকায় আসতে রাজি হয়।