রেকর্ড গড়ে শেষ চারের টিকেট নিশ্চিত করল ঢাকা ডায়নামাইটস

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরের প্রথম দেখায় রাজশাহী কিংসকে ৬৮ রানে হারিয়েছিল ঢাকা ডায়নামাইটস। সেই রাজশাহীকেই এবার ঢাকা হারাল ৯৯ রানে। যা বিপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জয়। রাজশাহীর বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়া জয়ের দিন শেষ চারের টিকেটও কেটেছে সাকিব আল হাসানের দল। তবে ঢাকা শেষ চার নিশ্চিত করলেও এই লড়াই থেকে অনেকটাই ছিটকে গেল রাজশাহী।

১১ ম্যাচে চার জয়ে রাজশাহীর পয়েন্ট আট। ১০ ম্যাচে পাঁচ জয়ে রংপুর রাইডার্সের পয়েন্ট ১০। রংপুর তাদের বাকি দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই শেষ চার নিশ্চিত করবে। পয়েন্ট তালিকায় পিছিয়ে থাকায় শেষ ম্যাচে জিতলেও বিদায় নিতে হবে রাজশাহীকে।

এর আগে চট্টগ্রাম পর্বের শেষ ম্যাচে ঢাকাকে ১২ রানে হারিয়ে শেষ চারের টিকেট কাটে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। কুমিল্লার বিপক্ষে হারায় শেষ চার নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের অপেক্ষা করতে হচ্ছিল ঢাকা পর্ব পর্যন্ত। তবে অপেক্ষার পালা খুব বেশি দীর্ঘ করেনি ঢাকা ডায়নামাইটস। ঢাকার ফিরতি পর্বে শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার সুনীল নারাইন ও জো ডেনলির জোড়া হাফসেঞ্চুরি এবং কাইরন পোলার্ডের ব্যাটিং ঝড়ে ২০৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় ঢাকা। জবাবে ঢাকার বোলারদের দাপুটে বোলিংয়ে ১৮.৩ ওভারে মাত্র ১০৬ রানেই গুটিয়ে যায় রাজশাহী।

ঢাকার ছুঁড়ে দেওয়া ২০৫ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এদিন শুরু থেকেই নড়বড়ে ছিল রাজশাহী কিংস। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের করা প্রথম ওভার থেকে লেন্ডল সিমন্স ও মুমিনুল হক মিলে নিতে পেরেছেন মাত্র এক রান। পরের ওভারেই রাজশাহীর শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন সাকিব। বাঁহাতি এই অলরাউন্ডারের করা তৃতীয় বলে সরাসরি বোল্ড হন সিমন্স। দুই বলের ব্যবধানে বোল্ড হন লুক রাইটও। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার। দুই উইকেট নিতে নিজের প্রথম ওভারে কোনও রান খরচ করেননি সাকিব।

নিজের দ্বিতীয় ওভারে রাজশাহীর শিবিরে আবারও আঘাত হানেন সাকিব। ওভারের প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন ড্যারেন স্যামির পরিবর্তে রাজশাহীর নেতৃত্ব পাওয়া মুশফিকুর রহিমকে। তিনিও খুলতে পারেননি রানের খাতা। স্কোরকার্ডে আর ১০ রান যোগ হতে বিদায় নেন জাকির হাসানও। রাজশাহীর সংগ্রহ তখম চার উইকেটে ১৯ রান। এরপর পঞ্চম উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন মুমিনুল হক-সামিত প্যাটেল। এই জুটির সংগ্রহ যখন ৩৬ রান তখন কাইরন পোলার্ডের বলে নাদিফ চৌধুরীর হাতে ধরা পড়েন ১৯ রান করা মুমিনুল।

মুমিনুলের বিদায়ের পর ফের খেই হারায় রাজশাহী। ইনিংসের ১০ম ওভারে শহীদ আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন রাজশাহীর পাকিস্তানি অলরাউন্ডার উসামা মীর। যদিও ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন সামিত প্যাটেল। উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রেখে ঢাকার বোলারদের উপর চড়াও হয়েই খেলছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। তবে ব্যক্তিগত ২৮ রানে সাকিবের চতুর্থ শিকারে পরিণত হন তিনি। আউট হওয়ার আগে ১৭ বলে দুই চার ও সমান সংখ্যক ছয়ে ২৮ রান করেন এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান।

অষ্টম উইকেটে ২৩ রান যোগ করে পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমিয়েছেন মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ সামি। কিন্তু ১৬ রান করা মিরাজকে থামান সাদ্দাম হোসেন। তিন রানের ব্যবধানে ফিরে যান সামিও। শেষ পর্যন্ত ১৮.৩ ওভারে ১০৬ রানে থামে রাজশাহীর ইনিংস। সাকিব আল হাসান চার ওভার বল করে একটি মেডেনসহ আট রানের বিনিময়ে তুলে নেন চার উইকেট। এছাড়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও সাদ্দাম ইসলাম নেন দুটি করে উইকেট।

এর আগে রাজশাহীর ফিল্ডারদের বাজে ফিল্ডিংয়ের সুযোগে ঢাকার দুই ওপেনার জো ড্যানলি ও সুনীল নারাইন ১২৯ রানের বড় জুটি গড়েন। ৩৪ বলে ৬৪ রানে নারাইন ও ৫৪ বলে ৫৩ রান করে ড্যানলি ফিরে গেলেও শেষ দিকে ঝড় তোলেন কাইরন পোলার্ড। মাত্র ১৩ বলে ১ চার ও চার ছক্কার সাহায্যে ৩৩ রান করেন তিনি। এছাড়া অধিনায়ক সাকিব অপরাজিত থাকেন ১৩ রানে। সব মিলিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ঢাকার সংগ্রহ দাঁড়ায় পাঁচ উইকেটে ২০৫ রান। রাজশাহী কিংসের পক্ষে কাজী অনিক নেন দু’টি উইকেট নেন। একটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ সামি, মেহেদী হাসান মিরাজ ও সমিত প্যাটেল।