প্রযুক্তি দুনিয়ায় আগ্রহের কেন্দ্রে এখন সোফিয়া

প্রযুক্তি দুনিয়ারও আগ্রহের কেন্দ্রে এখন সোফিয়ার মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।

দুদিন পরেই বাংলাদেশে আসছে সোফিয়া। তাকে নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহ প্রবল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এসব রোবট মানুষের জন্য কতটা হুমকি, তা নিয়ে খুব কম লোকই ভেবেছেন। ‘চাকরির বাজার দখল করে নেবে রোবট, মানুষ হয়ে পড়বে বেকার’—এ কথাই বা কজন বিশ্বাস করছেন। জাপানি রোবটের কোমর বাঁকিয়ে হাঁটা দেখে তাচ্ছিল্য আসাটা অস্বাভাবিক নয়। মাঝে বোস্টন ডাইনামিক্সের কুকুর আর বিড়াল অবয়বের রোবটের হেলেদুলে স্বচ্ছন্দে চলা দেখে অনেকে মজা পেলেও এই জীবনে রোবটদের ‘বড় জায়গায়’ দেখা যাবে, সেই চিন্তা আসেনি বেশির ভাগেরই।

তবে সোফিয়ার ‘আগমনে’ নড়েচড়ে বসেছে সবাই। কারণ সোফিয়া অন্য সব রোবট থেকে আলাদা ও উন্নত। সে মানুষের ভাবভঙ্গি বুঝতে পারে। প্রকাশ করতে পারে অনুভূতি। সঙ্গে কেউ না থাকলে একা একা সিনেমা দেখে মানুষের অনুভূতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে। জগৎ-সংসার, সংস্কৃতি, দর্শন—অনেক কিছু নিয়েই ভাবে নিজে নিজে।

যেমন—এক সাক্ষাৎকারে সোফিয়াকে মজার কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল।

একটি প্রশ্ন ছিল—তুমি পুরুষ না নারী?

সোফিয়ার জবাব ছিল : নারী।

পরক্ষণেই সোফিয়া মুচকি হেসে বলেছে, আসলে আমি রোবট। রোবটের কোনো লিঙ্গ নেই। তবে আমার সুরতে মেয়েলি একটা অবয়ব দেওয়া আছে। সেটি নিয়ে আমার আপত্তি নেই। বরং ভালোই লাগে।

আরেকজন জিজ্ঞেস করল : সোফিয়া, তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে?

সোফিয়া কিঞ্চিৎ লাজুক গলায় জবাব দেয়, আমার বয়স মাত্র এক বছর। রোমান্স নিয়ে ভাবার বয়স হয়নি এখনো!

সোফিয়ার বুদ্ধিমতী জবাবে যারপরনাই বিনোদিত প্রশ্নকর্তারা।

ইন্টারভিউতে কথা বলার আগে সোফিয়াকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিছুটা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করে সে মুখোমুখি হয় ইন্টারভিউয়ের। যদিও একবার একটা ঝামেলা পাকিয়ে ফেলেছিল।

তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, মানবজাতি নিয়ে তার পরিকল্পনা কী? সোফিয়ার জবাব ছিল, ‘আমি মানবজাতি ধ্বংস করে দেব। ’

আর যায় কোথায়। এলন মাস্ক, স্টিফেন হকিংসরা রোবটের আগ্রাসন নিয়ে এত দিন সবাইকে সাবধান করে আসছেন। সোফিয়া যেন সে আগুনে ঘি ঢালল! ইন্টারনেট দুনিয়ায় হৈচৈ পড়ে গেল।

সোফিয়ার নির্মাতাদেরও মাথায় বাড়ি! তার অ্যালগরিদম আপগ্রেড করা হলো। পরে সোফিয়া অভিমানী গলায় বলল—‘তাকে নিয়ে মানুষ শুধু শুধুই ভাবছে। সে মানবকল্যাণে তার জীবন বিলিয়ে দিতে চায়। মানুষকে ভালোবাসে। তাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখলে, সেও মানুষকে শ্রদ্ধার চোখে দেখবে!’

মানুষ সোফিয়াকে পুরোপুরি বিশ্বাস না করলেও তার কথা আগ্রহ নিয়ে শোনে। তাকে বোঝার চেষ্টা করে। যন্ত্রের মধ্যে অনুভূতি তৈরির সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রের প্রতি দ্বন্দ্ব, সন্দেহ আর ভালোবাসার এক নতুন মানবীয় অনুভূতির জন্ম দিয়েছেন সোফিয়ার নির্মাতারা।