নীলফামারীতে নারী সহ বিএনপির নেতাকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা

প্রকাশ্য দিবালেকে এক নারী সহ বিএনপির নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছ দূর্বৃত্তরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে এ্ই জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাইপাস সড়কের জসিম বাজার দোলাপাড়া মহল্লার এক ভাড়া বাড়িতে।

পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান ও রংপুর হতে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেষ্টিগেশন) একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রাথমিক তদন্ত করার পর বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে যুবতীর মরদেহটি ঘরের বিছানায় ও বিএনপি নেতার মরদেহটি বাড়ির সামনের মাটি অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় সৈয়দপুর থানা পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নেয়। তবে হত্যার শিকার ওই যুবক যুবতীর পরিচয় বিকাল পর্যন্ত পাওয়া না গেলেও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দিকে তাদের পরিচয় উদ্ধার করে পুলিশ। এরা হলো দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশীদ(৩৫) ও তার মামাতো বোন সাথী আরা(২৪)। তাদের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক ছিল। এ ছাড়া মামুনুর রশীদের মালিকাধীন দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর, দিনাজপুর, রানীবন্দর, নীলফামারী, বীরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ১২টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে বলে জানা যায়।

সুত্র মতে হত্যার শিকার মামুনের পার্বতীপুরে এক ইজারার গরুর হাট রয়েছে। সেটি তার মামা অর্থাৎ হত্যার শিকর নারী সাথী আরার বাবা দেখাশোনা করেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায় ঘটনাস্থলের বাড়িটি সৈয়দপুর শহরের নিয়ামতপুর সরকার পাড়া মহল্লার ডাঃ তৌফিক ইনামের স্ত্রী নাদিরা আক্তারের। বাড়িটি উচু সীমানা প্রাচীরে ঘেরা।

স্থানীয়রা জানায়, এলাকার মানুষের সাথে ভাড়াটিয়ার তেমন কোন যোগাযোগ ছিলনা। সকাল ১১টায় ৩জন যুবক এক মোটরসাইকেলে ওই বাসায় আসে। কিছু সময় পর বাসার ভেতর থেকে মেয়ে ও এক যুবক বের হয়। এ সময় তিন মোটর সাইকেল আরোহীর মধ্যে ২ জন তাদের হাতে থাকা ধারালো দুটি ছোরা দিয়ে এলোপাথারী ভাবে ছেলে ও মেয়েটিকে কোপাতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির বাহির থেকে টেনে হেচড়ে মেয়েটিকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যায় আর ছেলেটিকে বাসার সামনেই হত্যা করে। এরপর তারা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। বাড়ির ভিতরে দেখা যায় চুলোয় রান্নার জন্য পাতিল উঠা ছিল। বাড়ির বিভিন্ন স্থানে রক্ত, তোয়ালে, পড়নের জিন্স প্যান্ট ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পড়ে ছিলো।

এদিকে বাড়ির মালিক নাদিরা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এলাকার অটো চালক শিবলী সাদিক নামে এক ব্যক্তি এক বছর আগে বাড়িটি ভাড়া নেয়। তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ ওই বাড়িতে থাকতেন । হত্যার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দুপুরে বাড়িতে গিয়ে লাশের পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি। ওই দুজন তার ভাড়াটিয়া নন বলে দাবি করেন তিনি। তবে অনেকে ধারনা করছে বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদ তার পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী শিবলী সাদিককে দিয়ে ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে মামতো বোনকে দ্বিতীয় বিয়ে করে এখানে রেখেছিল। এই হত্যাকান্ডটির মধ্যে তাদের পারিবারিক কোন রহস্য থাকতে পারে বলে অনেকে ধারনা করছে।

এদিকে নীলফামারী পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে রংপুর হতে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেষ্টিগেশন) একটি দল আসে। তারা ঘটনাস্থল তদন্ত ও বেশ কিছু আলামত জব্দ করেছে।

পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান জানান, ধারণা করা হচ্ছে অসামাজিক কর্মকান্ডের কারণে এ হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে। বাড়ির মূল ভাড়াটিয়াকে আটকের চেষ্টা চলছে। অনেকে ধারনা করছে খুনীরা পার্বতীপুর হতে এসে এই জোড়াখুনের ঘটন ঘটিয়েছে।

সৈয়দপুর থানার ওসি শাহজাহান পাশা জানান এলাকাবাসী সকাল সাড়ে ১১টার দিকে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে এসে দেখা যায় ওই বাড়ির সীমানা প্রাচীরের ভেতর অজ্ঞাত যুবক এর ও বাড়ির ভেতর ঘরের বিছানায় উপুর হয়ে থাকা সালোয়ার কামিজ পরিহিত যুবতীর মরদেহ পড়ে রয়েছে। যুবকের পড়নে আন্ডারওয়ার ও জামা ছিল। দুর্বৃত্তরা তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। ওসি জানান প্রাথমিক তদন্ত শেষে বিকাল সড়ে ৪টার দিকে মরদেহ দুইটি উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জোড়া খুনের দুইযুবক যুবতির পরিচয় পাওয়া যায়। তদের পরিবারের লোকজন থানায় এসেছে। এদিকে এ ঘটনায় ভাড়াটিয়া শিবলী সাদিককে আটকের চেষ্টা চলছে। তাকে পাওয়া গেলে এই হত্যা কা্েডর মুল মোটিভ উদঘাটন সম্ভব হবে।

জাকির হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি