সংকটাপন্ন অবস্থায় নৃত্যগুরু মাতা রাহিজা খানম ঝুনুর

সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন নৃত্যগুরু মাতা রাহিজা খানম ঝুনুর। শারীরিক অসুস্থতার কারনে রাজধানীর ল্যাব এইডের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন দেশের ‘নৃত্যগুরু মাতা’ হিসেবেখ্যাত একুশে পদক প্রাপ্ত জাতীয় নৃত্যশিল্পী রাহিজা খানম ঝুনু। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুসফুস ও হৃদরোগে ভুগছিলেন।

কিছুদিন আগেও অসুস্থতার কারণে এক সপ্তাহ হাসপাতালে কাটিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে ল্যাবএইডে নিয়ে যাওয়া হয়। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে সিসিইউতে ট্রান্সফার করা হয়। কিডনী সমস্যা, রক্তে ইনফেকশান, ডায়াবেটিক, শ্বাষজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ১২ নভেম্বর রাত টায় তিনি ধানমন্ডিস্থ ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি হন। দেশবরেণ্য এই শিল্পী ও দেশের নৃত্যাঙ্গনে অগণিত শিল্পী গড়ার এ কারিগর বর্তমানে হাসপাতালের সিসিউতে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সৌরভ জামান ও ডাঃ মোঃ সালাউদ্দিনের তত্বাবধানে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী বুলবুল ললিতকলা একাডেমির সদস্য সচিব নাসির আহমেদ বলেন, ‘বার্ধক্যসহ বিভিন্ন অসুখে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছেন। তবে সব সময়ই তার মনোবল ছিল খুবই শক্ত। তার মতো গুণি মানুষ খুবই কম জন্মে।’ একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও গবেষক আমানুল হক বলেন, ‘রাহিজা খানম ঝুনু খুবই গুণধর একজন নৃত্যশিল্পী। ল্যাবএইডে চিকিৎসাধীন এ শিল্পীকে চিকিৎসকরা পরবর্তী যেই ডায়ালাইসিস করার কথা বলেছেন সেটি স্কয়ার, এপোলোসহ দেশের কোনো হাসপাতালেই করা সম্ভব নয়। যেজন্য তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে নেওয়া খুবই জরুরী। এজন্য প্রচুর অর্থও প্রয়োজন। এমতাবস্থায় তার চিকিৎসা সহায়তায় সরকারী পদক্ষেপ জরুরী।’ থিয়েটার সংগঠক ও অভিনেতা খন্দকার শাহ আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে রাহিজা খানম ঝুনু একজন কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী।

যারা এখন প্রতিষ্ঠিত নৃত্যশিল্পী রয়েছেন তাদের বেশির ভাগই এসেছেন ঝুনু আপার হাত ধরে । তার অবস্থা এখন সংকটাপন্ন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারেরও উচিৎ গুণী এই শিল্পীর চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসা।’ রাহিজা খানম ঝুনু সারাটাজীবন নাচ নিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন এবং নাচকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠা করার এক অনবদ্য মানসে তিনি নিবেদিত হয়ে কাজ করে এসেছেন। দেশ বিদেশে অনেক সফল নাচের অনুষ্ঠান করে সমাদৃত হয়েছেন ঝুনু। তার কন্যা ফারহানা চৌধুরী বেবীও একজন গুণী নৃত্যশিল্পী ও বিশিষ্ঠ নৃত্যপরিচালক। বুলবুল ললিতকলা একাডেমি বাফার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন।

নৃত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ‘নৃত্যগুরুমাতা’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছে। দুই ছেলে এবং এক মেয়ে ল্যাবএইড হাসপাতালে সার্বক্ষণিক তার সাথে রয়েছেন । তারা দেশবাসীর কাছে গুণী এই শিল্পীর জন্য দোয়া চেয়েছেন- তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে সবার মাঝে আবার ফিরে আসতে পারেন।