যাত্রী হয়রানি বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের দাবি

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়।

গণপরিবহনে যাত্রী হয়রানি বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে যাত্রী অধিকার আন্দোলন নামে একটি সংগঠন। বিআরটিএ’র উদাসীনতার সুযোগে পরিবহনগুলো এখন আরও বেপোরায়া হয়ে উঠেছে দাবি করে যাত্রী অধিকার অন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল বলেন, বাস মালিক-শ্রমিকের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআরটিএ।

তিনি বলেন, নগরবাসীর চাহিদা বিবেচনায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রাজধানীতে চলমান সিটিং সার্ভিসের নামে যাত্রী হয়রানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। কিন্তু কতিপয় বাস মালিক-শ্রমিকের অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটের অজুহাতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বিআরটিএ। এ সময় সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে সরকার জনগণের কাছে তিন মাস সময় চায়। কিন্তু ৩ মাসের পরিবর্তে ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি তারা, যা নগরবাসীকে হতাশ করেছে।

সিএনজি অটোরিকশা চালকদের ডাকা ধর্মঘট কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সিএনজি অটোরিকশা মালিক-চালকদের বেপরোয়া আচরণের কারণে সাধারণ যাত্রীরা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এতে ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে তারা আবারও ধর্মঘটের নামে নাগরিককে জিম্মি করার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এই ধরনের কর্মসূচির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

বাস মালিকদের সিএনজি অটোরিকশা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সংগঠনের সদস্য মাইন উদ্দিন আরিফ বলেন, নৈরাজ্যের কারণে সিএনজি অটোরিকশার প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে যাত্রীরা, আপনারা অটোরিকশা থেকে শিক্ষা নিয়ে সিটিং সার্ভিসের নামে নৈরাজ্য বন্ধ করে যাত্রীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা চালু করুন। নতুবা যে কোনও সময় আপনাদেরও বর্জনের ডাক দেবে নগরবাসী।

এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে সিটিং সার্ভিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, রাজধানীতে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা, শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর করাসহ আট দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনের আহ্বায়ক অন্তু মুজাহিদের সভাপতিত্বে ও মুখপাত্র মাহামুদুল হাসান শাকুরির পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে যাত্রী অধিকার আন্দোলনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।