মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী, ব্যবসা বন্ধের পায়তারা

বরগুনার আমতলীর পৌর শহরের জিমি ব্রিকস এর মালিক আবুল বাশার নয়ন মৃধাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী ও ব্যবসা বন্ধের পায়তারার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানাগেছে, উপজেলার আমতলী সদর ইউনিয়নের সেকান্দারখালী গ্রামে আবুল বাশার নয়ন মৃধা ২০১৫ সালে জিমি ব্রিকস নামে ৫ একর জমি ক্রয় করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছারপত্র নিয়ে একটি ঝিগঝ্যাক ইটের ভাটা নির্মাণ করেন। শুরুতে ভালোই চলছিল তার ব্রিকসের ব্যবসা। ব্রিকসের উত্তর পাশে মৃত হাজী কাছেম আলী তালুকদার ওয়াক্ফ এস্ট্রেটের ৩২৬নং খতিয়ানের ১২.৪১ একর জমি রয়েছে। ২০১৪ সালে ওই জমির মোতাল্লি শাহীন তালুকদার ও শহীদ তালুকদার জমি দেখাশুনা ও মামলা পরিচালনার জন্য নয়ন মৃধাকে ক্ষমতা অর্পণ করে। ২০১৬ সালে ওই জমিতে আবুল বাশার নয়ন মৃধা ব্যবসা সম্প্রসারনের জন্য জোর করে তাদের অংশের জমি ইটভাটার সাথে সংযুক্ত করে বলে ওয়াক্ফ এস্ট্রেট্রের অপর উত্তরাধিকারী মৃত মজিবুর রহমান তালুকদারের মেয়ে শাহিদা আক্তার সুমি ও ছেলে রূপক তালুকদার অভিযোগ করেন।

তাদের দাবী ব্রিকস সংলগ্ন স্থানে তাদের জমি দিতে হবে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বন্দের সৃষ্টি হয়। এনিয়ে কয়েক দফা সালিশ বৈঠকও হয়েছে। এরপর উভয় পক্ষ বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আমতলী সদর ইউপি চেয়ারম্যানকে শালিশ মানে। তারা গত ২৫ অক্টোবর উভয় পক্ষকে লিখিত রোয়েদাদের মাধ্যমে জমির ফয়সালা করে দেন।

রোয়দাদে উল্লেখ আছে ছোট নীলগঞ্জ মৌজায় ৩২৬ নং খতিয়ানে ২৫.৩৭ একর জমির মধ্যে সরকারী খাস ৭.১৬, ছলে ১.৪০, মজিবর রহমান তালুকদার ও শহীদ তালুকদারের দান ৩.৭৪ একর। অবশিষ্ট জমি থাকে ১২.৪১ একর। এক ভাগে জমি পায় ৪.১৩ একর জমি। মৃত্যু মজিবর রহমান তালুকদার গংদের অংশের জমি তার কন্যা শাহিদা আক্তার সুমি ও পুত্র রূপক তালুকদার গত ২৯ জুন নোটারী পাবলিক (এভিডেভিট) করে বরগুনা জেলা পরিষদের সদস্য শাহিনুর তালুকদারের কাছে দুই বছরের জন্য বন্ধোবস্ত দেয়। শাহিনুর তালুকদার একই দিনে চাষাবাদের জন্য ঐ জমি স্থানীয় মোস্তফা হাওলাদারের নিকট বন্ধোবস্ত দেয়।

জিমি ব্রিকস এর উত্তর পাশে ইট ভাটা লাগোয়া মৃত হাজী কাছেম আলী তালুকদার ওয়াক্ফ এস্ট্রেটের জমি মোতাল্লী শাহিন তালুকদার, শহিদ তালুকদার ও মৃত মজিবর রহমান তালুকদার গংরা ভাগ ভাটোয়ারা করে নিয়েছে। এরমধ্যে ব্রিকস এর লাগোয়া শাহিন ও শহীদ তালুকদারের জমি তারপরে মৃত মজিবর রহমান তালুকদারের জমি। কিন্তু মৃত্যু মজিবর রহমান তালুকদারের অংশের জমি তার মেয়ে শাহিদা আক্তার সুমী ও পুত্র রূপক তালুকদার ঐ খানে জমি না নিয়ে ইট ভাটা সংলগ্ন শাহিন ও শহিদ তালুকদারের অংশের মধ্যে নিতে চায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ¦ন্দের সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, জিমি ব্রিকস এর উত্তর পার্শ্বে মৃত্যু মজিবর রহমান তালুকদার গংদের অংশের জমিতে চাষাবাদ করে ধান রোপন করেছে বন্ধোবস্ত সূত্রে পাওয়া মালিক মোস্তফা হাওলাদার।

এ বিষয়ে মোস্তফা হাওলাদার বলেন আমার জমি আমি বুঝে পেয়ে তা চাষাবাদ করে ধান ফালাইছি। নয়ন মৃধা আমার জমি দখল করেনি।

জেলা পরিষদের সদস্য শাহিনুর তালুকদার জানান, মৃত্যু মজিবর রহমান তালুকদার গংদের অংশের জমি তার মেয়ে শাহিদা আক্তার সুমী ও পুত্র রূপক তালুকদার আমাকে ২ বছরের জন্য বন্দোবস্ত দিয়েছে। আমি সে জমি মোস্তফা হাওলাদারের নিকট চাষাবাদের জন্য বন্ধক দিয়েছি।

জিমি ব্রিকস এর মালিক আবুল বাশার নয়ন মৃধা অভিযোগ করেন, আমার ইটভাটা সংলগ্ন ব্রিকসের উত্তর পাশে মৃত হাজী কাছেম আলী তালুকদার ওয়াক্ফ এস্ট্রেটের জমি রয়েছে। এ জমির মোতাল্লি শাহিন তালুকদার ও শহিদ তালুকদার তাদের অংশের জমি আমাকে দেখাশুনা ও মামলা পরিচালনা করার ক্ষমতা অর্পন করেছেন। তিনি আরও বলেন আমার ক্রয়কৃত জমিতে ইটভাটা নির্মান করেছি। ওয়াক্ফ এস্ট্রেটের জমি দখল করে আমি কোন ইটভাটা নির্মান করিনি। শুধুমাত্র আমি ক্ষমতা অর্পনকারী হিসেবে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। গত ৪ঠা অক্টোবর শাহিদা আক্তার সুমি বাদী হয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে হয়রানী করছে। তাদের ন্যায্য জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরেও তারা তা মানছে না। আমার ব্যবসায়ের ক্ষতি করার জন্য ব্রিকস সংলগ্ন জমি তারা দাবী করে আমার ব্যবসা বন্ধের পায়তারা করছে।

এ বিষয়ে শাহিদা আকতার সুমি বলেন আবুল বাশার নয়ন মৃধা আমার আমার জমি দখল করে ইটভাটা নির্মাণ করছে।

মোঃ মেহেদী হাসান, বরগুনা জেলা প্রতিনিধি