সিরাজদিখানে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের চেষ্টা ৩ বখাটে গ্রেপ্তার

সিরাজদিখানে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের চেষ্টা মামলায় বখাটে ৩ আসামীকে রবিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করেছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। গতকাল সোমবার গ্রেপ্তারকৃত ৩ আসামীকে মুন্সীগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা করেছে।

ছাত্রীর স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, মেয়েটি উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের ফুরশাইল গ্রামে মামা বাড়িতে থেকে ফুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণিতে পড়াশুনা করছে। তার বাবার বাড়ি একই উপজেলার বয়রাগাদি ইউনিয়নে। গত শুক্রবার মামার বাড়ির পাশেই চলছিল একনাম কীর্তন, স্বজনদের সাথে কীর্তনে যায় ওই ছাত্রী। রাত ৮ টার দিকে পাশেই বান্ধবীর বাড়ি যাওয়ার পথে, ফুরশাইল গ্রামের হারুন শেখের বখাটে ছেলে রবিন শেখ (২৪) মেয়েটিকে মুখ চেপে জঙ্গলের দিকে টেনে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় মেয়েটি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে বখাটে রবিন পালিয়ে যায়।

স্থানীয় ভাবে ঘটনাটি ধামাচাপার চেষ্টা করে একটি পক্ষ। বিষয়টি এক পর্যায় উপজেলার বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচিত হয়। পরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সহযোগীতায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। রবিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পুলিশ সাথে নিয়ে বখাটে রবিনকে তার বাড়ি থেকে আটক করে। এসময় রবিনের কথামতে তার সহযোগী আরও দুইজন ফুরশাইল গ্রামের দিলিপ ঘোষের ছেলে দেবু ঘোষ ও গোড়াপীপাড়া গ্রামের হাসান মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তারা মাদক সেবী হিসেবে এলাকায় বেশ পরিচিত বলে তারা আরো জানায়। এছাড়া গত ২ বছর আগে ফুরশাইল মাজারে উরশ চলাকালীন সময় রাতে ২য় শ্রেণির এক ছাত্রিকে ধর্ষনের চেষ্টা করলে হাতে নাতে ধরা পরে এই বখাটে রবিন। পরে স্থানীয় ভাবে শালিশ মিমাংসা করা হয়েছিল।

সিরাজদিখান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম জানান, ছাত্রীর মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩ জন বখাটেকে গ্রেপ্তার করে মুন্সীগঞ্জ আদলতে পাঠানো হয়েছে। ছাত্রীর জবানবন্দি অনুযায়ী বখাটে রবিন ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি