মোবাইল পাশে রেখে ঘুমাচ্ছেন না তো?

ঘুমানোর জন্য কী কী লাগে? বিছানা, বালিশ, শীতে লেপ বা কম্বল। এই তো? না এখন অনেকের ক্ষেত্রেই আরেকটি অনুসঙ্গ যুক্ত হয়েছে মোবাইল ফোন। বিছানায় হাতের কাছেই রাখা হয় প্রিয় স্মার্টফোনটি। ঘুম না আসলে চলে ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডয়ায় ঘাটাঘাটি। আর ঘুম থেকে উঠেই তো স্মার্টফোনটিই দেখতে হবে নাকি? তাই তরুণ প্রজন্মসহ অনেকের কাছেই ঘুমানোর সময় মোবাইল থাকবেই।

মোবাইল বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস চার্জে দিয়ে হেড ফোন লাগিয়ে ব্যবহার করা বিপদের কারণ হতে পারে বলে অনেকেরই জানা। তাই এমন করা থেকে অনেকে হয়তো বিরত থাকেন। কিন্তু এবার জানা গেল স্মার্টফোন এবং এটি চালানোর জন্য চালু রাখা ওয়াইফাই রাউটারের বিপদ। এসব থেকে যে তরঙ্গ বিকিরিত হয় তা জীবের বিকাশের জন্য ক্ষতিকর।

তরঙ্গ কীভাবে জীবের বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে নিয়ে গবেষণা করেছে ডেনমার্কের একদল শিক্ষার্থী। গবেষণায় ওয়াইফাই রাউটার ও কিছু শাকের বিজ ব্যবহার করা হয়।

পরীক্ষার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ম্যাথিল্ডে নিয়েলসন জানিয়েছেন, তাঁরা ৪০০ রকমের শাকের বীজের ওপর পরীক্ষা চালান। ছয়টি ট্রেতে ওই শাকের বীজ রেখে ১২ দিন তাঁরা পরীক্ষাটি চালিয়েছেন। শাকের বীজগুলোকে সমপরিমাণ পানি ও সূর্যলোক দিয়েছে তাঁরা। শুধু ছয়টি ট্রেকে রাখা হয়েছিলো ওয়াইফাই রাউটারের কাছাকাছি।

এতে দেখা যায়, সাধারণ মোবাইল থেকে যতটা বিকিরণ আসে ঠিক ততটাই ওই ওয়াইফাই রাইটারগুলি থেকে বিকিরণ আসে। ১২ দিন পরে দেখা যায়, ওয়াইফাই রাউটারের কাছাকাছি রাখা শাকের বীজগুলো মোটেও বাড়েনি বরং বেশির ভাগই হয় শুকিয়ে গেছে না হয় মারা গেছে। অথচ রাউটার ছাড়া শাকের বীজের ট্রেগুলো স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।

গবেষণার ফলাফলের কথা টেনে আরেক শিক্ষার্থ  ম্যাথিল্ডে নিয়েলসন বলেছেন,  এই গবেষণার ফলাফর সমানভাবে মানুষের উপরেও প্রযোজ্য। এটি মানুষের মস্তিষ্ক বা শরীরের জন্য খুব বিপজ্জনক হতে পারে। তাই তাঁরা পরামর্শ দিয়েছেন ঘুমোতে যাওয়ার সময় হয় মোবাইল ফোনটা দূরে রাখতে হবে না হলে বিছানায় রাখলে তা বন্ধ রাখতে হবে। আর ওয়াইফাই রাউটারের ব্যাপারেও একই নীতি।