স্বায়ত্বশাসন বাতিলের প্রতিবাদে স্পেনে বিক্ষোভ

আত্মসমর্পণ করা সত্ত্বেও শর্তসাপেক্ষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাপন্থী নেতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইদেমন্ত ও তার চার সহযোগীকে। শর্তগুলোর মধ্যে আছে, তিনি আপাতত বেলজিয়াম ত্যাগ করতে পারবেন না এবং নিয়মিত তাকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। এদিকে, কাতালোনিয়ার আটক স্বাধীনতাকামী নেতাদের মুক্তির দাবি ও প্রদেশটির স্বায়ত্বশাসন বাতিলের প্রতিবাদে স্পেনের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ মানুষ।

কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন, কারাগারে আটক অঞ্চলটির স্বাধীনতাকামী রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং কর্মীদের মুক্তির দাবিতে রাজধানী মাদ্রিদে সমাবেশ করেছেন স্পেনের কয়েক’শ নাগরিক।

পুলিশি পাহারায় রোববার শান্তিপূর্ণ সমাবেশটি স্পেনের পার্লামেন্টের সামনে থেকে শুরু হয়ে মাদ্রিদের প্লাজা ডেল সোলে গিয়ে শেষ হয়। স্বাধীনতার বিষয়টি কাতালোনিয়ার জনগণের নিজস্ব সিদ্ধান্ত বলে জানান তারা।

বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, ‘কাতালোনিয়ার জনগণ নিজেদের চাওয়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন। স্পেনের সঙ্গে তাদের কী রকম সম্পর্ক বজায় থাকবে ভোটের মাধ্যমে তারা তা ঠিক করেছেন।’

বিক্ষোভকারী আর একজন বলেন, ‘কাতালান কিংবা স্প্যানিশ; প্রতিটি মানুষের নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রয়েছে। আমরা তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকারের প্রতি সমর্থ জানাচ্ছি। তারা স্বাধীনতাপন্থী হোক আর স্পেনের সঙ্গেই থাকুক। নাগরিক অধিকারের প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।’

একইদিন, কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতাকামীদের মুক্তির দাবিতে বার্সেলোনায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্বাধীনতাকামীরা। কাতালান জাতীয় পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভে স্পেনের সঙ্গে কাতালোনিয়ার চলমান সঙ্কটকে ইউরোপের লজ্জা বলে আখ্যায়িত করেন তারা।

স্বাধীনতাকামীদের একজন বলেন, ‘ইউরোপকে জানাতে চাই, আমাদের প্রেসিডেন্ট বেলজিয়ামে, নেতারা মাদ্রিদের কারাগারে, তার অর্থ এই না- স্বাধীনতার কার্যক্রম থেমে গেছে। আমরা স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের জন্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।’

স্পেনের উত্তরাঞ্চলের বন্দর এবং শিল্পনগরী বিলবাওয়েও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাস্ক স্বাধীনতা পন্থী জোট, বাস্ক জাতীয় শ্রমিক ইউনিয়নসহ কয়েটি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভে অন্তত ৪৪ হাজার মানুষ অংশ নেয়। এসময় তারা কাতালোনিয়ার স্বায়াত্বশাসন বাতিলে সংবিধানের ১৫৫ ধারা কার্যকরের বিরোধিতা, পাশাপাশি স্বাধীনতাকামীদের কারাবন্দি করায় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন তারা।

এদিকে, বেলজিয়াম পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের পর শর্তসাপেক্ষ মুক্তি পেয়েছেন কাতালোনিয়ার বহিষ্কৃত প্রেসিডেন্ট কার্লোস পুইদেমন্ত ও তার চার সহযোগী। শুক্রবার স্পেনের বিচারক কর্তৃক ইউরোপীয় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর রোববার তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালত তাদের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেন আদালত। শর্তগুলোর মধ্যে অনুমতি ছাড়া বেলজিয়াম ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, বেলজিয়ামে অবস্থানের সব তথ্য আদালতকে জানানো এবং ১৫ দিনে একবার আদালতে হাজিরা অন্যতম।