নিজের জীবনকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন ইলিয়ানা!

সিনেমা মানেই কল্পনা-বাস্তবের মিশেলে তৈরি এক মায়াবী আস্তরণ। কিন্তু এর নেপথ্যেও লুকিয়ে থাকে আরও অনেক কাহিনী।

যে কাহিনী অধরাই থেকে যায়। আবার কখনও কখনও তা প্রকাশ্যে এসে বিস্মিত করে। খবরের শিরোনামেও উঠে আসে। এমনই এক স্বীকারোক্তি শোনা গেল অভিনেত্রী ইলিয়ানা ডি’ক্রুজের মুখে। সকলের সামনে নায়িকা জানালেন এমন এক সময় তার জীবনে এসেছিল যখন আত্মহত্যা করার কথা ভেবেছিলেন তিনি।

কিন্তু কেন? দক্ষিণের চলচ্চিত্র মহলে তো বেশ নাম রয়েছে তার। বলিউডেও বেশ কদর রয়েছে। তারপরও এমন চিন্তা কীভাবে এল তার মনে?

দিল্লির ২১তম ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অফ মেন্টাল হেলথে অংশ নিয়ে নায়িকা জানান, বডি ডিসমরফিক ডিজঅর্ডার ছিল তার। এমন এক মানসিক রোগ যাতে শরীরের সৌন্দর্য নিয়ে মনের মধ্যে অবসাদ তৈরি হয়।

একটা সময় ছিল যখন ইলিয়ানার মনে হত তাকে মোটেও সুন্দর দেখতে নয়। এ নিয়ে মানসিক অবসাদ এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে নিজের জীবনকেই শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন নায়িকা। তবে সময় থাকতেই ইলিয়ানা বুঝে যান এটা পুরোটাই মনের ব্যাপার। কাকে কেমন দেখতে তা একেবারেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। আসল কথা হল নিজেকে গ্রহণ করে নিজের মতো বাঁচা। হাসি মুখে বাঁচা।

‘বাদশাহো’র নায়িকা জানান, গোটা বিষয়টি ম্যাজিকের মতো একদিনে হয়নি। ধীরে ধীরে নিজের এই অবসাদ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। শরীরের মতো মনেরও রোগ হতে পারে। আর তা বুঝতে পারাটাই একটা বড় বিষয়। শরীরের রোগের জন্য যদি আমরা চিকিৎসকের কাছে যেতে পারি তাহলে মনের রোগের জন্য কেন নয়? এই প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী। সকলকে মানসিক রোগ নিয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বলিউডে অবশ্য এ স্বীকারোক্তি নতুন নয়। এর আগেও নিজের মানসিক অবসাদের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন ‘পদ্মাবতী’ দীপিকাও। আজ সাফল্যের শীর্ষে তিনি। কিন্তু একটা সময় এই অবসাদের শিকার হতে হয়েছিল তাকেও। সেই সময়ের কথা উঠলে এখনও বিচলিত দেখায় অভিনেত্রীকে। তিনিও মানসিক অবসাদ সচেতন হওয়ার কথা বারবার বলে এসেছেন। এবার ইলিয়ানার কণ্ঠেও শোনা গেল একই সুর।