মৌসুমীর জন্মদিনে জাজ মাল্টিমিডিয়ায় বিশেষ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান

বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমীর জন্মদিন উপলক্ষে আজ রাত ৮.০০দিকে জাজ মাল্টিমিডিয়াতে ঘরোয়াভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাজ মাল্টিমিডিয়া ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ফোরাম এর পক্ষ থেকে চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে জন্মদিনের অভ্যর্থনা জানান হয়। মৌসুমীর নিজ হাতে কেক কেটে উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে পরিবেশন করেন। তার সাথে সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার অর্ধাঙ্গ চিত্র জগতের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানি।

১৯৯৩ সালে প্রথম চলচিত্র জগতে পা রাখেন মৌসুমি। শুরুটা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির রেশমা চরিত্র দিয়ে। বয়স তখন মাত্র বিশ। অভিনয়ে আসার আগে বিজয়ী হন ‘আনন্দ বিচিত্রা ফটো বিউটি কনটেস্ট’এ। এর সুবাধে মূলত নজরে আসেন পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত। সুপারহিট এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নিজের অভিনয় দক্ষতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হয় সালমান শাহর সঙ্গে জুটিও।

শুধু সালমানের সঙ্গে নয়, একই বছর ওমর সানির সঙ্গে ‘দোলা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আলোড়ন তৈরী করেন এ নায়িকা। শীর্ষ নায়িকার খেতাব নিতে খুব বেশি সময় নেননি। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয় নি নায়িকা মৌসুমীকে। বিভিন্ন সময় জনপ্রিয় সব নায়কের সাথে জুটি বেঁধে দর্শকদের উপহার দিয়ে গেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সেরা কয়েকটি চলচ্চিত্র।

১৯৭৩ সালের আজকের এইদিনে (৩ নভেম্বর) খুলনায় জন্ম নেন ঢালিউডের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। পুরো নাম আরিফা পারভিন জামান মৌসুমী। শুধু অভিনেত্রীই নন, কখনো প্রযোজক, কখনও পরিচালক, ব্যবসায়ী কিংবা ফ্যাশন ডিজাইনার।

মৌসুমীর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে আছে ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিশ্বপ্রেমিক’,‘গরীবের রাণী’,‘বীর সৈনিক’,‘মোল্লা বাড়ির বউ’, ‘এক কাপ চা’,‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’,‘আম্মাজান’,‘মেঘলা আকাশ’, ‘খায়রুন সুন্দরী’ সহ অসংখ্য চলচ্চিত্র।

শুধু অভিনেত্রী নয়, প্রযোজক হিসেবেও সফল। ১৯৯৬ সালে ‘গরীবের রাণী’ দিয়ে শুরু। ‘সুখের ঘরে দুখের আগুন’,‘আমি এতিম হতে চাই’ এর মতো বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের প্রযোজক তিনি।

পরিচালক হিসেবে মৌসুমীর অভিষেক হয় ২০০৩ সালে ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। ২০০৫ সালে পরিচালনা করেন দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘মেহের নিগার’।

অভিনয়শিল্পী পরিচয়ের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে গায়কী পরিচয়। অভিনয়েল পরেই তার গানের স্থান। তিনি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠও দিয়েছেন। ২০০৪ সালে ‘মাতৃত্ব’ ছবিতে, ২০১৪ সালে ‘তারকাঁটা’ ছবির গানে কন্ঠ দেন। ‘ছায়াছবি’ চলচ্চিত্রে ‘মন যা বলে বলুক’ নামক গানের গীতিকারও তিনি।

প্রায় দুইশ চলচ্চিত্রে অভিনয় করা মৌসুমীর পুরস্কার প্রাপ্তির সংখ্যাও কম নয়। ২০০১ এ নার্গিস আক্তারের ‘মেঘলা আকাশ’, ২০১৩ তে চাষী নজরুল ইসলামের ‘দেবদাস’ ও ২০১৪ তে মোস্তফা কামাল রাজের ‘তারকাঁটা চলচ্চিত্রের জন্য তিনবার শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে জিতে নিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। পুরস্কারের ঝুলিতে আরও আছে তিনবারের মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কারও।

ব্যাক্তিজীবনে সহশিল্পী ওমর সানিকে বিয়ে করেন ১৯৯৬ সালে। ২১ বছরের সংসারে ফারদিন ও ফাইজা নামের দুই সন্তানের জননী মৌসুমী।