বিপিএলের টিকেট না পেয়ে স্টেডিয়ামে ভাঙচুর

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ দর্শকরা হামলা চালিয়েছে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে। সে সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে স্টেডিয়ামে ভাঙচুর করে টিকেট বঞ্চিতরা। চরম ক্ষুব্ধ হয়ে স্টেডিয়ামের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের উপর জুতাও নিক্ষেপ করে টিকিট প্রত্যাশীরা।

০১ নভেম্বর বুধবার টিকিট বিক্রি চলাকালে দুপুর দেড়টার দিকে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা। টিকিট প্রত্যাশীদের নিক্ষেপ করা ইটপাটকেলের আঘাতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বেলা দেড়টায়র দিকে গ্যালারি ও ক্লাব হাউজের টিকিট আর অবশিষ্ট নেই বলে জানায় টিকিট বিক্রেতারা। কেবল ভিআইপি গ্যালারির (গ্র্যান্ড) টিকিট দেওয়া হচ্ছে। যার মূল্য দুই হাজার টাকা। কিছুক্ষণ পর গ্র্যান্ডষ্ট্যান্ড গ্যালারির টিকিটও তারা কমিয়ে দেন।

এরপর থেকেই বিক্ষুব্ধ টিকিট প্রত্যাশীরা কাউন্টার লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। ইটপাটকেলের আঘাতে স্টেডিয়ামের কোষাধক্ষ্যের কক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষের গ্লাস ভাঙচুর হয়। সে সময় ক্রীড়া ভবনের উপরে থাকা স্টেডিয়ামের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জুতা ছোঁড়ে টিকেট প্রত্যাশীরা। পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। সে সময় টিকিট প্রত্যাশীরা পুলিশের প্রতিও মারমুখী হয়ে ওঠে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশের সাথেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশও লাঠিচার্জ শুরু করে। এই সময়েই উত্তেজিত টিকিট প্রত্যাশীরা ছোড়া ইটে একজন পুলিশ সদস্য পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

সংঘর্ষের পর সিলেট কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) গৌসুল হোসেন জানান, দর্শকরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ অবস্থায় বুধবার টিকেট বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ৭ ও ৮ নভেম্বরের টিকেট বিক্রি করা হবে।

এর অাগে টিকিট বিক্রির প্রথম দিন ৩১ অক্টোবর তিনটায় বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ করেন কর্তৃপক্ষ। এরপর ০১ নভেম্বর সকাল থেকে আবারো টিকিট বিক্রি শুরু হয়। দুই থেকে তিন ঘণ্টা টিকেট বিক্রির পর কাউন্টার বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করলে লাইনে দাঁড়ানোর টিকেট প্রত্যাশীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার থেকে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে বিপিএলের টিকেট বিক্রি শুরু হয়। প্রথম দিন থেকেই টিকেট বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে কাউন্টারে বিক্রি না করে বিপিএল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কালোবাজারে টিকেট বিক্রি করে দেন।