৬৩৯টি পেরেক খেয়েছেন প্রদীপ!

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙার স্কিত্জোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত প্রদীপ ঢালি প্রতিদিনই একটি করে লোহার পেরেক খেতেন! মাসের পর মাস পেরেক খেয়ে পেটে জমিয়েছেন পেরেকের স্তূপ। অবশেষে পেটের যন্ত্রণা ও বমির তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে তিনি কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি হন। 

৩০ অক্টোবর সোমবার সেখানে প্রদীপের পাকস্থলীতে অস্ত্রোপচার করা হয়। আর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পেট থেকে বের করা হয় ৬৩৯টি পেরেক।  হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রদীপ ৪৪ বছর ধরে প্রদীপ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। সাম্প্রতি পেটের ব্যথা নিয়ে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। কিন্তু সেখানে তার কোনো রোগ ধরা না পড়ায় তাকে কলকাতায় পাঠানো হয়। পরে গত শুক্রবার প্রদীপ কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন।

সোমবার কলকাতা মেডিকেল কলেজের সিদ্ধার্থ বিশ্বাসের নেতৃত্বে তিন চিকিৎসক দেড় ঘণ্টাব্যাপী প্রদীপের পেটে অস্ত্রোপচার করেন। প্রথমে প্রদীপের তলপেটে ১৫ সেমি কাটা হয়, পরে পাকস্থলীতে ১০ সেমি কাটা হয়। এরপর চুম্বকের সাহায্যে একে একে পেরেকগুলিকেবের করে আনা হয়।

প্রদীপ ঢালির পেটের আলট্রা সোনোগ্রাফি চিত্র (বায়ে) এবং (ডানে) অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পেট থেকে বের করা হয় ৬৩৯টি পেরেক

চিকিৎসক জানান, মানসিক সমস্যার কারণে তিনি প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে পেরেক খেয়েছেন। পেটের যন্ত্রণা ও বমি হলেও চিকিৎসককে পেরেক খাওয়ার ব্যাপারে তিনি কিছু জানাননি। তবে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন, তার পাকস্থলীতে শত শত পেরেক রয়েছে।

তবে প্রদীপের পেটের সব পেরেকই বের করা সম্ভব হয়েছে। প্রায় দেড় কেজি পেরেক জমলেও পাকস্থলীর বিশেষ ক্ষতি হয়নি। তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে জানান তিনি। বর্তমানে প্রদীপের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে কীভাবে এই তীক্ষ্ণ পেরেকগুলি দিনের পর দিন প্রদীপ খেয়েছেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না চিকিৎসকরাও।