বিপিএল’র টিকেট মিলছে না ব্যাংকে, ভোগান্তি ক্রিকেট প্রেমীদের

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সিলেটের ম্যাচগুলোর ‘টিকেট’ ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবি) ব্যাংকে পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল ইউসিবি ব্যাংকে পাওয়া যাবে। শুধু মাত্র জেলা স্টেডিয়াম থেকে টিকেট কিনতে হবে সিলেটের ক্রিকেট প্রেমীদের।

ফলে চরম ভোগান্তিতে টিকেট সংগ্রহ করতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। কয়েকদিন ধরেই সিলেটজুড়ে আলোচনার মুখ্য বিষয় বিপিএল। চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে শুরু করে শহর কিংবা গ্রাম সবখানেই বিপিএল নিয়ে আলোচনা। সবার মুখেই একই রকম কথা-টিকিট কোথায়, কবে থেকে পাওয়া যাবে।

কোন দল কখন আসছে, থাকবে কোন হোটেলে-ইত্যাদি নানা প্রশ্ন ক্রিকেট প্রেমীদের। টিকেট প্রাপ্তি নিয়ে ব্যাকুল দর্শকরা। ২৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সিলেটবাসীর টিকেট প্রাপ্তি নিয়ে ব্যাকুলতা দূর করতে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালক ও সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

সিলেট আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাদেল জানান, ৫ ক্যাটাগরিতে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করেছে বিসিবি। ৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে ৩ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রিকাবীবাজারস্থ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের বুথে এবং ইউসিবি ব্যাংকের নির্ধারিত ব্রাঞ্চেও টিকিট পাওয়া যাবে।

একজন দুইটির বেশি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন না। তবে একটি স্থানীয় পত্রিকা ও স্পোর্টস পোর্টালের ভুল সংবাদে গতকাল সোমবার সকাল ৮টায় টিকেট কিনতে সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরে ইউসিবি ব্যাংকের শাখার সামনে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক ক্রিকেটপ্রেমী। কিন্তু ব্যাংকের লেনদেন শুরু হওয়ার পর টিকেট কিনতে না পেরে তারা হট্টগোলের সৃষ্টি করেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় ব্যাংকের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। টিকেট কিনতে জড়ো হওয়া স্থানীয়রা জানান, সিলেটের একটি দৈনিক পত্রিকা ও একটি স্পোর্টস পোর্টালে নিউজ দেখে তারা ব্যাংকের সামনে টিকেট কিনতে জড়ো হয়েছেন। তারা এসময় স্পোর্টস পোর্টালটির খবরের স্কিনশট দেখিয়েও বিক্ষোভ করেন। হট্টগোলের পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে।

সে সময় ইউসিবি ব্যাংক শাহজালাল উপশহর ব্রাঞ্চের অপারেশন ম্যানেজার সৈয়দ আশরাফুল আমীন হাসান প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমরাও শুনেছি ইউসিবি ব্যাংকের মাধ্যমে বিপিএল’র টিকেট বিক্রি হবে। কিন্তু এ ব্যাপারে বিসিবি’র কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। ইউসিবি ব্যাংক সিলেটের ৭টি শাখার কোনোটিতেই বিপিএল’র কোন টিকেটও সরবরাহ করা হয়নি। ফলে দর্শকদের কাছে টিকেট বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’

৩০ অক্টোবর সোমবার রাত ৮টায় যোগাযোগ করা হলে ইউসিবি ব্যাংক শাহজালাল উপশহর ব্রাঞ্চের ম্যানেজার সব্য সাথী গুপ্ত একই উত্তর দেন। তিনি প্রিয়.কমকে বলেন, ইউসিবি ব্যাংক সিলেটের ৭টি শাখার কোনোটিতেই বিসিবি বিপিএল’র কোনো টিকেট দেয়নি। ফলে ৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার দর্শকদের কাছে টিকেট বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’

২৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবারের প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, ৫ ক্যাটাগরিতে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে টিকিটের মূল্য দুই হাজার, ক্লাব হাউস ৫০০, গ্রিন গ্যালারী ৪০০, ওয়েস্টার্ন গ্যালারী ৩০০ ও নর্দান গ্যালারী ২০০ টাকা নির্ধারণ করেছে বিসিবি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সিলেটের অধিকাংশ মানুষ বিপিএলের চার-ছক্কা দেখতে মাঠে এসে পড়বেন! সিলেটের ক্রীড়ার জন্য এটা ইতিবাচক দিক হলেও, এর বাইরে অন্য শঙ্কাও কাজ করছে। কারণ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা প্রায় ১৮ হাজার।

কিন্তু বিপিএল নিয়ে সিলেটবাসীর মাঝে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তাতে দর্শকদের উপচেপড়া উপস্থিতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। টিকেটপ্রাপ্তি নিয়েও ব্যাকুল এ অঞ্চলের ক্রিকেটপ্রেমীরা। এই সুযোগে টিকেট কবজায় নিতে কালোবাজারিরাও তৎপর রয়েছে। এমন অবস্থায় সুষ্ঠুভাবে টিকেট বিতরণ ও পরিস্থিতি সামাল দেওয়াটাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ।