বিনিয়োগে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয় বিদেশিদের

গতকাল সোমবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ভোজসভায় ‘বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক বক্তৃতায় এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে এসে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয় বিদেশিদের। এখানে বিনিয়োগে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা দুর্নীতি। এর পাশাপাশি বন্দরের দুর্বলতা ও শুল্ক কাঠামো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। ব্যবসা শুরু করতে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ, জমির নিবন্ধন জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তো আছেই। এসব সত্ত্বেও এখনো একক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগই সবচেয়ে বেশি।

অ্যামচেম সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা, সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ফারুক সোবহান ও বিভিন্ন চেম্বারের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। পোশাক খাত প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, এ খাতের নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিক অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অবশ্য এ দুই ইস্যুতে বাংলাদেশ কিছু অগ্রগতি দেখিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ পোশাক কারখানাও এখন বাংলাদেশে। তবে এ খাতে এখনো অনেক কিছু করা বাকি আছে বলে মনে করেন বার্নিকাট। ক্রেতাদের সব উদ্বেগ কাটাতে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে এখনো অনিষ্পন্ন কাজগুলো শেষ করতে সরকার এবং উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বার্নিকাট বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং শ্রমিক অধিকারের বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) কারখানার ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব কারখানার সক্ষমতা উন্নয়ন প্রয়োজন। অ্যামচেম সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা কম-বেশি সব দেশেই আছে।প্রতিবন্ধকতা না থাকলে যেন ব্যবসার মজাই থাকে না। ব্যবসায়ীরা যতটা না মুনাফার আশা করে, তার থেকেও বেশি পরিমাণে প্রতিবন্ধকতা আসবে সেই আশায়ই করেন। এসব প্রতিবন্ধকতা পায়ে ঠেলেই এগিয়ে যান ব্যবসায়ীরা।