নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে বহিরাগত ব্যক্তি ও গাড়ির প্রবেশ নিয়ন্ত্রণসহ আট দফা দাবি আদায়ে তাঁরা ক্লাস বর্জন করে গতকাল সোমবার তৃতীয় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

বুয়েটের শিক্ষার্থীরা বলেন, ২৬ ও ২৭ অক্টোবর বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মধ্যে মারামারি হয়। বুয়েট শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুরো ঘটনায় বুয়েট কর্তৃপক্ষ উদাসীন ছিল এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। তবে বুয়েট কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের সব দাবি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত নয়।

গতকাল বেলা একটার দিকে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে তাঁরা শহীদ মিনারের সামনে এবং এর আশপাশের রাস্তায় অবস্থান নেন। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান শেষে সবাই রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে বিকেল পর্যন্ত অবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে আজও ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল করবেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো বুয়েট ছাত্রদের নিপীড়নের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে বুয়েট প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে মামলা দায়ের এবং সুবিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সব মামলার কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারক করতে হবে। ওই দিনের ঘটনার যথাযথ এবং স্বচ্ছ বিবরণ দিয়ে বুয়েট প্রশাসন থেকে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করতে হবে। পলাশী মোড় এবং বকশীবাজার মোড়ে দুটি ফটক নির্মাণ এবং সব ফটকে সিসি টিভির মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বুয়েটে শহীদ মিনার-সংলগ্ন পদচারী-সেতু অপসারণ করতে হবে। বুয়েট ছাত্রদের নিপীড়নের ঘটনায় জড়িত স্টাফ কোয়ার্টারের সব মাদক ব্যবসায়ী এবং তাঁদের পরিবারকে বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে উচ্ছেদ করতে হবে।

গতকাল আন্দোলনরত বুয়েটের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৬ অক্টোবর দুপুরে বুয়েটের পদচারী-সেতু থেকে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তকে উঠিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন বিকেলে তারা সদলবলে বুয়েট ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় রাতেই চকবাজার থানায় বুয়েট প্রশাসন মামলা করে। পরদিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল থেকে ৩০-৪০ জন আবারও হামলা চালায়।
বুয়েটের শিক্ষার্থী শাহাদ ইশরাক বলেন, গত শনিবার তাঁরা তাঁদের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার প্রতিকার চান। উপাচার্য তাঁদের আশ্বাস দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরদিন ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক এবং প্রভোস্টদের সঙ্গেও তাঁরা দেখা করেন। কিন্তু তাঁরাও কোনো ব্যবস্থা নেননি।

আরেক শিক্ষার্থী মুবাশশির তাহমিদ বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী হামলা চালিয়েছিল, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করে না। তাই এই ঘটনায় যারা অভিযুক্ত, তাদের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

জানতে চাইলে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক সত্যপ্রসাদ মজুমদার বলেন, বুয়েট প্রশাসন প্রথম থেকেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে বুয়েট প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যে দাবিগুলো তুলেছেন, তার অনেকগুলোই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। ফটক নির্মাণসহ কয়েকটি বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাই এখনই তাঁদের সব দাবি মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ওই দিন কী ঘটেছিল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী হামলায় অংশ নিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে জহুরুল হক হলের প্রভোস্ট এবং প্রক্টরের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।