দূষণের কবলে জর্জরিত হাতিরঝিল

রাজধানীতে যে সমস্ত লেক বা পার্ক রয়েছে তার অধিকাংশই যখন দখল আর দূষণের কবলে জর্জরিত। ঠিক তখনই নগরবাসীর জন্য তৈরি করা হয় স্বপ্নের হাতিরঝিল। ইট পাথরের নগরীতে বসবাসকারী মানুষগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে পান। প্রাণ খুলে নির্মল বাতাস নেওয়ার সুযোগ পায় নগরবাসী।

প্রতিদিন সন্ধ্যার পর হাতিরঝিল এক অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়। এক অপূর্ব মুহূর্ত তৈরি হয় যখন হাতিরঝিলের ওভার ব্রিজগুলোর ভেতর থেকে বের হয়ে আসে লাল, সাদা, বেগুনী, আকাশী, খয়েরী রঙের আলো। যখন লাইটগুলো একটার পর একটা রঙ পরিবর্তন করে তখন তাকে এত সুন্দর দেখায় যেতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।  তখন শুধু হাতিরঝিল আর ঝিল থাকে না পরিণত হয় মায়াবী এক দেবীতে। দেখে মনে হয়  উন্নত বিশ্বের কোনো দর্শনীয় স্থান।

বর্তমানে রাজধানীর দৃষ্টিনন্দন জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম হাতিরঝিল। এটি উদ্বোধন ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারিতে। এ প্রকল্প চালুর ফলে ঢাকার তেজগাঁও, গুলশান, বাড্ডা, রামপুরা, মৌচাক ও মগবাজার এলাকার বাসিন্দাসহ এ পথ দিয়ে চলাচলকারী নগরবাসী বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, ইতিমধ্যেই ঢাকাবাসীর প্রিয় ভ্রমণ স্থানগুলোর অন্যতম একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে হাতিরঝিল।

হাতিরঝিল প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বন্যা প্রতিরোধ, ময়লা-পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাজধানীর যানজট নিরসন ও শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি। কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই প্রকল্পটির চেহারা এখন হতশ্রী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝিলের পানিতে দুর্গন্ধ। অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলার কারণে বিপন্ন হয়ে পড়েছে ঝিলের পরিবেশ।

তাছাড়া ঢাকা শহরের বর্জ্যমিশ্রিত ড্রেনের বড় একটা অংশ গিয়ে পড়ছে হাতিরঝিলে। যার ফলে দিন দিন পানির দূষণ বাড়ছে। পানির রং ধারণ করছে কালো বর্ণ। ময়লা-পানির পচা দুর্গন্ধে বিরক্ত ও হতাশহচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

পথচারীদের নাকে মুখে হাত দিয়ে হাটতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ‘বর্ষার সময় পানি বেশি থাকার কারণে দুর্গন্ধ কিছুটা কম ছিল। কিন্তু এখন ঝিলের পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দুর্গন্ধও বাড়ছে।’

প্রকল্পের পশ্চিমাংশে পান্থপথ দিয়ে হাতিরঝিলে কঠিন বর্জ্য যাতে না পড়ে সেজন্য বৈদ্যুতিক ছাঁকনি বসানো হয়েছে। যেখানে মরা মুরগি, গরু-ছাগলের নাড়িভুঁড়ি, খাবারের প্যাকেট, লেপ-তোশকের অংশবিশেষ এমনকি নানা উচ্ছিষ্টের সমাহার।

বিশেজ্ঞদের মতে, এভাবে অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ঝিলটি একটি পচা পানির আধারে পরিণত হবে। এখনই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্খা নেওয়ার পরামর্শ দেনবিশেজ্ঞরা।