জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশকে জোরালো অবস্থান নেওয়ার দাবি

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে ১০টি অধিকারভিত্তিক নাগরিক সংগঠন আসন্ন বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদলের স্বচ্ছ এবং সমন্বিত ভূমিকার দাবি জানিয়েছে।

আগামী ৭ নভেম্বর থেকে জার্মানির বনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (কপ ২৩) জলবায়ু অর্থায়নকে সহজলভ্য করতে বাংলাদেশকে জোরালো অবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ১০টি অধিকারভিত্তিক নাগরিক সংগঠন। তারা সবুজ জলবায়ু তহবিল থেকে অতি বিপদাপন্ন দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য করতে বাংলাদেশকে জোরালো ভূমিকা রাখার সুপারিশ করে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ন্যায্যতা এবং দায়িত্বের অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সোচ্চার ভূমিকা রাখার স্বার্থে জলবায়ু সম্মেলনে সরকার এবং সুধীসমাজের ঐকবদ্ধ্য অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে সেমিনারে বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন। ‘নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা: প্রেক্ষিত বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন’ শীর্ষক সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাপা, বিসিজেএফ, সিএসআরএল, সিপিডি, সিপিআরডি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, বিসিএএস, আইসিসিসিএডি, কোস্ট ট্রাস্ট এবং ইক্যুইটিবিডি। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ইক্যুইটিবিডির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সভাপতি এবং জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশ সরকারি প্রতিনিধিদলের সমন্বয়কারী ড. কাজী খলীকুজ্জমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ এমপি। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের ড. আতিক রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান, সেন্টার ফর সাসটেইনেবল রুরাল লাইভলিহুডের প্রতিনিধি প্রদীপ কুমার রায়।

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘নিজেদের অর্থায়ন নীতিমালাকে পাশ কাটিয়ে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড তাদের নিয়ম নীতিতে পরিবর্তন আনছে, যা অতি বিপন্ন দেশগুলোর জন্য সমস্যা তৈরি করছে। এই তহবিল থেকে অর্থ পাওয়া খুব জটিল, আমাদের এই বিষয়ে কপ ২৩-তে জোরালো অবস্থান নিতে হবে।

ড. আতিক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জলবায়ু আলোচনায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, সব দেশ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করলেও আগামী শতাব্দীতে বিশ্বের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়বে। কিন্তু আমরা ধনী দেশগুলোর সন্দেহজনক কার্যক্রম এবং প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা দেখে হতাশ। তাই এ বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালনে সুধীসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।