‘সারা বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্যে কিছু উন্নত দেশ বাধার সৃষ্টি করছে’

গতকাল রবিবার রাজধানীর র‍্যাডিসন হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং ইউএনডিপি-বাংলাদেশ যৌথ আয়োজনে ‘ইমপ্যাক্ট বাংলাদেশ ফোরাম ২০১৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ফোরামে চারটি আলাদা সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও দেশের বেসরকারি খাত এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, দেশের বাণিজ্য নীতিমালায় প্রতিবন্ধকতা না থাকলে তাঁরা আরো উন্নতি করতে পারতেন। এ সমস্য সমাধানে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে নীতিমালা সংস্কারে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছু উন্নত দেশের কাছ থেকে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে জানিয়ে এম এ মান্নান বলেন, ‘সারা বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্যে আমাদের চলাফেরায় কিছু উন্নত দেশ বাধার সৃষ্টি করছে। আমরা জাতিসংঘের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যাতে আমাদের সঙ্গে যে অবিচার করা হচ্ছে সেটা বন্ধে তারা যেন আমাদের পাশে থাকে।’

ইউএনডিপি-বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর কাওকো ইউকোসোকা বলেন, বাংলাদেশ সরকার গৃহীত সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এসডিজির লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে খুবই সংগতিপূর্ণ। যেখানে জিডিপিতে বেসরকারি খাতের অবদান হবে ৭৭ শতাংশ। পাশাপাশি ১ কোটি ৩০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। তবে বেসরকারি খাত দেশে ও বিদেশে এখনো মূল উন্নয়নের চাবিকাঠি হলেও জিডিপিতে বেসরকারি খাতের উন্নয়নের পরিমাপ যথাযথভাবে হিসাব করা হয় না। এ জন্য সামগ্রিক উন্নয়নে বেসরকারি খাতের প্রভাব নিয়ে তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানান তিনি।

এফবিসিসিআইর সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বিদ্যমান সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, আর্থিক ঋণ সহায়তা প্রাপ্তি, সরকার ও বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ডিসিসিআইর সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে ৩০তম অর্থনীতির দেশ হতে হলে শুধু অবকাঠামো খাতেই ৩২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে প্রয়োজন। আর এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশকে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি মনোযোগী হতে হবে, পাশাপাশি জিডিপিতে বিনিয়োগের অবদান ৪০ শতাংশ নিতে হবে এবং ২০৩০ সালের শেষ নাগাদ এর পরিমাণ দাঁড়াবে ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যাতে আরো বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি, শিল্প খাতে জ্বালানি নিশ্চিতকরণ, তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়ন করার বিকল্প নেই বলে জানান তিনি। তবে অন্য একটি সেশনে বক্তব্য প্রদানকালে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হলো এগুলো তো সঠিকভাবে কাজই করে না। কালিয়াকৈরের আইটি পার্কের সব কাজ মোটামুটি শেষ, কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে পড়ে রয়েছে, কাজ শুরু হচ্ছে না। এত কিছু করে ট্যানারি নিয়ে যাওয়া হলো সাভারে। কিন্তু নির্ধারিত সময় কেন এখনো পর্যন্ত সেটার কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না।

পিপিপি কার্যালয়ের সিইও সৈয়দ আফসর এইচ উদ্দিন বলেন, ‘অবকাঠামো অর্থায়নের অন্যতম উৎস হতে পারে পিপিপি। আসিয়ান এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ আরো বাড়াতে হবে। এমসিসিআইর সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, ‘রেগুলেটরি বিষয়ক সংস্কারের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।’

সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘এসডিজিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আমাদের অবশ্যই বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে এমন একটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহলের সঙ্গে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে পারবে।’