সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণের নির্দেশ হাইকোর্টের

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান খান ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পক্ষে ছিলেন মো. খালেকুজ্জামান।

৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পাঁচ প্রতিবন্ধী প্রার্থীকে ৬০ দিনের মধ্যে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য এক শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করারও নিদের্শ দিয়েছেন আদালত। পাঁচ প্রতিবন্ধী প্রার্থীর করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রায় দেন।

সোমবার শফিকুল ইসলাম বলেন, রোববার আদালত রায় দিয়েছেন। আদালতের রায় পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পাঁচ প্রার্থীকে ৩৪তম বিসিএসে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘বিসিএস ক্যাডার সার্ভিস এবং অন্যান্য প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের জন্য এক শতাংশ কোটা সংরক্ষণ’ শীর্ষক আদেশের ‘খ’ অংশ অবৈধ ঘোষণা করেছেন।

ফলে এখন থেকে বিসিএস ক্যাডার সার্ভিস এবং অন্যান্য প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের জন্য এক শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করতেই হবে বলে জানান শফিকুল ইসলাম। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশের ‘খ’ অংশে বলা হয়েছে, ‘বিসিএস ক্যাডারসহ সরকারি দফতর স্বায়ত্তশাসিত ও আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন কর্পোরেশনের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটাসমূহের মধ্যে যে কোটায় পর্যাপ্ত সংখ্যকযোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাইবে না সেই কোটা হইতে এক শতাংশ যোগ্য প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের দ্বারা পূরণ করা হইবে।’

৩৪তম বিসিএসে দুই হাজারের ওপরে প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। তবে দেখা যায়, এতে মাত্র তিনজন প্রতিবন্ধীকে ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। সে কারণে প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত ওই এক শতাংশ কোটা পূরণ না করে নন-ক্যাডারে তালিকার্ভুক্ত করায় ওই পাঁচ প্রতিবন্ধী রিট আবেদনটি করেন।

ওই রিটের পর হাইকোর্ট ২০১৫ সালের ১৬ নভেম্বর রুল জারি করেন। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রোববার রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।