মে মাসে বাংলাদেশে আসছে আইকাও অডিট দল

অপ্রতুল নিরাপত্তা ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের কারণ দেখিয়ে গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশের সঙ্গে আকাশপথে সরাসরি কার্গো (বাণিজ্যিক উদ্দেশে পণ্য পরিবহন) পরিবহন স্থগিত করে যুক্তরাজ্য। পরে ওই বছরের ২১ মার্চ পরামর্শ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও জনবল প্রশিক্ষণের জন্য দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রেডলাইন অ্যাসিউরড সিকিউরিটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

একই সঙ্গে দেড় বছর ধরে বিমানবন্দরগুলোর মানোন্নয়নে কাজ করছে বেবিচক, যার ধারাবাহিকতায় দেশের বিমানবন্দরগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে আগামী মে মাসে আসছে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) সিকিউরিটি অডিট টিম।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, আইকাওয়ের সিকিউরিটি অডিট টিমের অডিট সামনে রেখে এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে বেবিচক। এর অংশ হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত কর্মকর্তা চেয়েছে বেবিচক।

নতুন জনবল কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আরো চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পদ চেয়ে ১২ অক্টোবর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় বেবিচক। বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এম নাঈম হাসান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষে বর্তমান পরিচালকের অধীনে একজন কমান্ডার এভসেক পদ (গ্রেড ৪) এবং ওই পদের অধীনে নিরাপত্তা পরিচালনা, পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসন সম্পর্কিত কার্যক্রম তত্ত্বাবধানের জন্য তিনটি ডেপুটি কমান্ডার পদের প্রস্তাব করা হয়েছে।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের মে মাসে আইকাওয়ের সিকিউরিটি অডিট টিম বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা (ইউএসএপি-সিএমএ) অডিট করবে। ফলে বিমানবন্দরের ওভারসাইট ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল মনিটর করার জন্য একজন উইং কমান্ডার (চতুর্থ গ্রেড) ও দুজন স্কোয়াড্রন লিডার (পঞ্চম গ্রেড) কর্মকর্তা এভসেকে সাময়িক সংযুক্ত করা প্রয়োজন।

বেবিচক সদস্য (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হয়েছে। শিগগিরই এফএএ টিম পরিদর্শনে আসবে। ওই টিম ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন সেফটি অ্যাসেসমেন্ট (আইএএসএ) পর্যবেক্ষণ করে যদি ভালো রিপোর্ট দেয়, তাহলে নিউইয়র্কে ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যেই এসব ইস্যুর নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।