বাংলাদেশ আসলে ‘পরাজয় ভাইরাস’ দ্বারা আক্রান্ত!

অবশেষে শেষ হলো ৪৩ দিনের লম্বা দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। দুই ম্যাচ টেস্ট, তিন ম্যাচ ওয়ানডে ও দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টিতে ৭-০ ব্যবধানে হেরেই বাংলাদেশের এই দুঃসহ সিরিজ শেষ হলো। উজ্জীবিত ও অনেকটাই গুছানো একটা দলকে চোখের পলকে এলোমেলো হতে দেখা গেছে দক্ষিণ আফিকায়। কিন্তু কেন এমন হলো? উত্তরটা দিলেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

রোববার পচেফস্ট্রুমে ৮৩ রানে হার নিয়ে শেষ করা বাংলাদেশ আসলে ‘পরাজয় ভাইরাস’ দ্বারা আক্রান্ত। এমনটাই মনে করেন সাকিব। সিরিজের শেষ ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার জানান, পুরো সিরিজটিই এত খারাপ ছিল যেখান থেকে হঠাৎ করে বের হওয়া সম্ভব ছিল না।

ব্যাখ্যায় সাকিব বললেন, ‘টেস্টে অত ভালো করিনি। ওয়ানডে যখন এসে গেছে টেস্টের রেশটাই খেলোয়াড়দের মধ্যে থেকে গিয়েছে। যখন ওয়ানডে ভালো হলো না ওই রেশটা আবার টি-টোয়েন্টির মধ্যে চলে এসেছে। এটা আসলে ভাইরাসের মতো। একটা থেকে আরেকটাতে ছড়ায়। যদি টেস্টে ভালো করতাম, ওয়ানডেও আরও ভালো করতে পারতাম। তখন টি-টোয়েন্টিও হয়ত ভালো হতো।’

প্রতিটি হার সরাসরি প্রভাব ফেলে ড্রেসিং রুমে। পাল্টে যায় পরিবেশ। সাকিব বলেন, ‘জায়গাটা এত কঠিন, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ দেখলে বোঝা যায়। জয়ী দলের ড্রেসিংরুমে শুধু জয়ের কথা থাকবে। পরাজিত দলে ব্যক্তিগত বিষয় বা নেতিবাচক অনেক কথা চলে আসে। পরিবেশটাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। একজন দুজন ভালো করার চেয়ে দল কেমন খেলল সেটাই আসলে গুরুত্বপূর্ণ।’

দক্ষিণ আফ্রিকার মিডক অর্ডার ব্যাটসম্যান ডেভিড মিলারের তাণ্ডবে ২২৫ রানের বড় লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। যা তাড়া করার মানসিকতা এখনও হয়ে ওঠেনি বাংলাদেশের, এমনটা মনে করেন স্পিনিং অলরাউন্ডার সাকিব। বলেন, ‘মিলারের ক্লিন হিট অবশ্যই ব্যতিক্রম। ১০ ওভারে ওদের রান ৭৮। ওই সময়েও ৭-৮ রান দিয়ে ফেলেছি বাজে ফিল্ডিংয়ে। ওদের ১৬০-৭০ রানে আটকে রাখার সুযোগ ছিল। আমরা এত বেশি রান দিয়ে ফেলেছি তখন খুবই কঠিন ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর। ২০০-২২০ করলে সেটা তাড়া করব এই মানসিকতা আমাদের এখনো তৈরি হয়নি। আমরা ওইখানেই আছি যে ১৬০-১৭০ বা সর্বোচ্চ ১৮০ করলে হয়তো তাড়া করতে পারব।’