জঙ্গি হামলায় নিহতের পরিবার ১৫,০০০ ইউরো করে পাবে

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত ২০ ব্যক্তির পরিবার ১৫,০০০ ইউরো করে পাবে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে অনুমোদনও দিয়েছেন।

দুই পুলিশ কর্মকর্তা বাদে দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিটি পরিবারকে ১৫ হাজার ইউরো (সাড়ে ১৪ লাখ টাকার মতো) দেওয়া হবে। নিহত বিদেশি নাগরিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রধানমন্ত্রী নিজে দেবেন নাকি সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হস্তান্তর করবেন সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিষয়টি। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিকল্প দুটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘হলি আর্টিজানের হামলায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কী প্রক্রিয়ায় অর্থ দেওয়া হবে সে বিষয়ে দুটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেটির সিদ্ধান্ত এলেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুলশান হামলায় ইতালির নিহত ৯ নাগরিকের পরিবারের পক্ষ থেকে ইতালিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করা হয়। পরে রাষ্ট্রদূত বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতালির নাগরিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। পরে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে শুধু ইতালির নিহত ৯ নাগরিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দেশি-বিদেশি নিহত ২০ জনের পরিবারকেই আর্থিক সহযোগিতার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ীই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

গত বছর ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। ওই হামলা প্রতিরোধে গিয়ে বেকারির বাইরে নিহত হন পুলিশের এডিসি রবিউল করিম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন। আর হলি আর্টিজানের ভেতরে জঙ্গিরা দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিককে হত্যা করে। এদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশের, ৯ জন ইতালির, সাতজন জাপানের এবং একজন ভারতের নাগরিক। পুলিশের নিহত দুই কর্মকর্তার পরিবারকে ইতিমধ্যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ইতালির নিহত ৯ জন হলেন ক্লাউদিয়া দান্তোনা (৫৬), সিমোনা মন্তি (৩৩), নাদিয়া বেনেদেত্তি (৫২), আদেলে পুলিজি (৫০), ক্রিস্তিয়ান রসি (৪৭), ক্লাউদিও কাপেল্লি (৪৫), ভিনচেনসো দালেস্ত্রো (৪৬), মারিয়া রিবোলি (৩৪) ও মার্কো তোন্দাৎ। জাপানের সাতজন হলেন তানাকা হিরোশি, ওগাসাওয়ারা, শাকাই ইউকু, কুরুসাকি নুবুহিরি, ওকামুরা মাকাতো, শিমুধুইরা রুই ও হাশিমাতো হিদেইকো।

নিহত তিন বাংলাদেশি হলেন অবিন্তা কবির (১৮), ফারাজ আইয়াজ হোসেন (২০) ও ইশরাত আখন্দ। আর ভারতের নিহত শিক্ষার্থী হলেন তারিশি জৈন (১৮)।