‘সিরিয়ার সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে দোহা ও রিয়াদ’

সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদেরকে আমেরিকা, কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্ক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আলে সানি। এর মাধ্যমে এতদিন মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার যে অভিযোগ ছিল তার সত্যতা প্রমাণিত হলো।

কাতারের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে হামাদ বিন জাসিম বলেন, সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদেরকে যে চারটি দেশ অর্থ ও সমরাস্ত্র দিয়েছে সেগুলোর মধ্যে কাতার অন্যতম। তিনি আরো বলেন, কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর মাধ্যমে সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্রসস্ত্র পাঠিয়েছে।

কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেসব অস্ত্র সিরিয়ায় পাঠানো হতো তা আমেরিকার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তুরস্কের ভেতর দিয়ে সিরিয়ায় পৌঁছে দেয়া হতো।  এসব অস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়ার দায়িত্বে ছিল মার্কিন সেনারা।”

অবশ্য হামাদ দাবি করেছেন, ওই চার দেশ সিরিয়ার সরকার বিরোধী কথিত মধ্যপন্থি বিদ্রোহীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে; উগ্র সন্ত্রাসীদের নয়। তবে বিদ্রোহীদের হাতে যাওয়ার পথে আন-নুসরা ফ্রন্টের মতো উগ্র গোষ্ঠীগুলো কখনো কখনো এসব অস্ত্রসস্ত্র ছিনিয়ে নিয়েছে বলে তিনি জানান।  উগ্র তাকফিরি জঙ্গি গোষ্ঠী দায়েশকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরো অভিযোগ করেন, সৌদি আরব এক সময় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইলেও এখন আর তা চায় না। রিয়াদ বর্তমানে বাশার আসাদকে ক্ষমতায় রেখে দিতে চায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামাদ বিন জাসেম বলেন, রিয়াদ যদি সত্যিই তাই চায় তাহলে তার উচিত সেকথা খোলাখুলি স্বীকার করে ঘোষণা দেয়া।

২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে শেখ হামাদ বিন জাসিম।  অর্থাৎ ২০১১ সালের মার্চ মাসে যখন সিরিয়ায় বিদেশি মদদে সন্ত্রাসবাদ চাপিয়ে দেয়া হয় তখন ক্ষমতায় ছিলেন হামাদ।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন চার আরব দেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে কাতারের সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সিরিয়ার বেশিরভাগ এলাকা সন্ত্রাসীদের হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কে এই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।