চট্টগ্রামে পাইকারিতে চালের দাম কমেছে

তবে চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে এর খুব একটা প্রভাব পড়েনি।

আমদানি মূল্যের চেয়ে কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা কমে চাল বিক্রি করে দিচ্ছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। বেশি দামে চাল আমদানি করলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লোকসান ঠেকাতে এই কৌশল নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে আমদানীকৃত চালের দাম বস্তাপ্রতি ২৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চাল আমদানিকারক এনামুল হক বলেন, ‘মিয়ানমারের ইমাতা চাল আমদানিতে খরচ পড়েছে কেজিতে ৩৩ টাকা কিন্তু বাজারে বিক্রি করছি ৩০ টাকা ২০ পয়সা অর্থাৎ কেজিতে লোকসান ২ টাকা ৮০ পয়সা। একইভাবে ভারতের বেতি চালের খরচ কেজি ৩৫ টাকা বিক্রি করছি ৩২ টাকা ২০ পয়সা। আর স্বর্ণা সিদ্ধ ৪২ টাকার কেনা চাল বিক্রি করছি ৩৭ টাকায়।’

সংকটের সময় চালের বাজার অনেক ঊর্ধ্বমুখী হবে ভেবে অনেকেই চাহিদার বেশি চাল আমদানি করে ফেলেন, এতে দাম কমার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকের ঋণের টাকায় কেনা চাল। যত দ্রুত বাজারে বিক্রি করতে পারি ততই লোকসানের বোঝা কমিয়ে ব্যাংক দেনা শোধ করতে পারব।

সরকারি হিসাবে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ লাখ ১৩ হাজার টন চাল আমদানি হয়ে গুদামে পৌঁছেছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে এসেছে ৩ লাখ ৮০ হাজার টন এবং বেসরকারি খাতে এসেছে ১০ লাখ ৩৩ হাজার টন।

যেখানে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট চাল আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার টন। উত্তরাঞ্চলে বন্যা এবং ধানের ব্লাস্ট রোগের কারণে বোরোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় চালের সংকট কাটাতে সরকার এ বছর মোট ২০ লাখ টন চাল ও গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সরকারি লক্ষ্যমাত্রার ১৫ লাখ টন চালের মধ্যে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন ইতিমধ্যে সরকারি গুদামে পৌঁছেছে। এর মধ্যে কিছু চালবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে খালাসের অপেক্ষায় আছে, বাকি চাল আসার পথে রয়েছে।

চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংকট মেটাতে শুল্কহার কমিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রচুর চাল আমদানি, মজুদদারি ঠেকাতে চালকলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং সরকারের খোলাবাজারে চাল বিক্রি কর্মসূচির প্রভাবে চালের বাজারে সংকট কাটতে শুরু করে। এর প্রভাবে চালের দাম কমেছে।

একই অভিমত দিয়ে চাল আমদানিকারক ও মনসা স্টোরের কর্ণধার ওমর আজম বলেন, ‘চালের বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখে অনেক ব্যবসায়ী চাল আমদানি করেছেন। এরই মধ্যে সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে চালকল মালিকরা চাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। সেই চালের সরবরাহ বাড়ায় বাজারে সংকট নেই। এতে আমরা নিজেরা কিছুটা লোকসান দিয়ে হলেও চাল বাজারে ছেড়ে দিচ্ছি। বেশিদিন রাখলে তো ক্ষতির বোঝা বাড়বে।’

তিনি মনে করেন, নতুন মৌসুমের চাল বাজারে আসবে শিগগিরই। ফলে ব্যাংক থেকে ঋণপত্র খুলে চাল আমদানিতে নতুন করে কেউ উৎসাহিত হবে না।’

জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারিভাবে আমদানীকৃত এসব চাল এসেছে প্রধানত থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, ভারত, সিঙ্গাপুর ও পাকিস্তান থেকে। দেশে চালের সংকটের খবর সেসব দেশে পৌঁছে যাওয়ায় সেখানকার ব্যবসায়ীরাও চালের বুকিং দর বাড়িয়ে দেন। যে কারণে দেশের ব্যবসায়ীদের বাড়তি দামেই চাল কিনে আনতে হয়েছে। চাহিদা কমে আসায় এখন সেসব দেশগুলোও চালের বুকিং দর কমিয়ে দিয়েছে।

সরবরাহ সংকট কমলেও চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে না আসার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কম দামে আমদানি চাল দেশে আসা শুরু হলে এবং নতুন মৌসুমের চাল বাজারে এলেই বাজার একেবারে সহনীয় হবে। এ জন্য চালকল এবং খুচরা বাজারে নিয়মিত তদারকি দরকার।

এদিকে খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই ও পাহাড়তলী-চট্টগ্রামের এই তিনটি পাইকারি বাজারেই আমদানি ও দেশীয় দুই ধরনের চালের দাম কমেছে। ৫০ কেজির বস্তাভেদে এই দাম কমেছে ২৫০ টাকা। পাইকারি বাজারে কমলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। ফলে ভোক্তাদের বাড়তি দামেই চাল কিনতে হচ্ছে।