খালেদার গাড়িবহরে হামলা, পরস্পরকে দোষারোপ আ. লীগ-বিএনপি

কক্সবাজারের উদ্দেশে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িতে হামলা পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে কক্সবাজারের উদ্দেশে শনিবার সকাল ১০টায় রওয়ানা দিয়ে রাত ১০টায় চট্টগ্রাম এসে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারপারসন। খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হয়ে আসা ফখরুল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেত্রীর গাড়িসহ বহরের বিভিন্ন ‍গাড়িতে হামলা হয়েছে। এটা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের পরিকল্পিত হামলা। এভাবে হামলা করে গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করা যাবে না।

তিনি বলেন, এই হামলায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিকরা। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

ফখরুল আরো বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছতে ১১ ঘণ্টা সময় লেগেছে। পথে পথে লাখ লাখ মানুষ বিএনপি নেত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন। সিটি গেইট থেকে সার্কিট হাউসে আসতে নেত্রীর গাড়িবহরের দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। পুরো চট্টগ্রাম লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে। এতে প্রমাণ হয় খালেদা জিয়া সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী।

তিনি বলেন, নেত্রী মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের দেখতে যাবেন। তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। মিয়ানমার থেকে যে ১০ লাখ মানুষ বাংলাদেশে এসেছেন তাদের অবশ্যই ফেরত পাঠাতে হবে।

ডাকাতের মতো হামলা: রিজভী

এদিকে, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগ ‘ডাকাতের’ মতো গণমাধ্যমকর্মীসহ বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মহৎ কীর্তি হলো গণতন্ত্রকে বধ করতে বিরোধী দলকে নিষ্ঠুর-নির্দয় নির্যাতন করা।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগ, বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহর ফেনী শহরে ঢোকার আগে আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসীরা’ বিএনপি নেতা-কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীসহ অনেক গণমাধ্যমকর্মী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আহত হয়েছেন। এ হামলা গণতন্ত্রের সংকটকে আরও ঘনীভূত করল। শান্তি, সহাবস্থান, স্থিতি এবং পরমতসহিষ্ণুতার পরিবর্তে জুলুম সন্ত্রাসের নানা ‘ডাইমেনশনকে’ স্বীকৃতি দিল আজকের এই হামলা।

আওয়ামী লীগের মিশ্র প্রতিক্রিয়া :

এদিকে, ঢাকা থেকে সড়কপথে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কক্সবাজার সফরকে মানবিক কারণ হিসেবে দেখছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির শীর্ষ নেতাদের মতে, এই সফর সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও লোক দেখানো। সড়কপথে খালেদা জিয়ার কক্সবাজার যাওয়ারও সমালোচনা করেন ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা।

‘আলোচনায় আসার জন্যই পাতানো হামলা’

কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফেনীতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলাকে পাতানো ঘটানো বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া উদ্দেশ্য-প্রণোদিত ঘটনা ঘটানোর জন্যই এতদিন পরে ত্রাণ দিতে কক্সবাজার যাচ্ছেন। আলোচনায় আসার জন্যই পাতানো হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বিএনপি।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার হারানো জনপ্রিয়তা উদ্ধারের জন্য এটা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নিজেদের দলের লোকজন দিয়ে সাজানো নাটকের মতো ঘটনা কিনা, তাও খতিয়ে দেখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি প্রশাসনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করব।’

‘খালেদা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে চান’

আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘খালেদা জিয়া তিন মাস লন্ডনে থেকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা করেছেন। তারাই ধারাবাহিকতায় তিনি দেশে ফিরে রাজনৈতিক কোনও ইস্যু না পেয়ে রোহিঙ্গা ইস্যু ধরে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে চান। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য সুনাম বয়ে এনেছেন।’

‘খালেদার কক্সবাজার সফর রাজনৈতিক’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজার যাওয়া মানবিক কারণে নয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-প্রণোদিত ও লোকদেখানো। তিনি যদি মানবিক কারণে যেতেন, তাহলে এত আওয়াজ দিয়ে সড়কপথে যেতেন না, আকাশপথে গিয়েই ত্রাণ দিয়ে আবার আকাশ পথেই ঢাকা ফিরে আসতেন।’

‘খালেদা যেতেই পারেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে যেতেই পারেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। বিষয়টিকে  যদি জাতীয় সমস্যা মনে করে তিনি যান, তাহলে খুব ভালো কথা। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে কোনও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করলে তা মোকাবিলা করা হবে।’ এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।