মা পরে ফোন দিচ্ছি, তার পর থেকে উৎপলের মুঠোফোনটি বন্ধ

১০ অক্টোবর সাংবাদিক উৎপল দাসের সঙ্গে তাঁর মায়ের শেষ কথা হয়েছিল। বলেছিলেন, জরুরি একটা ফোন আসছে, পরে ফোন করবেন। এরপর থেকে তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ।

ছেলের খোঁজ চেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন উৎপলের বাবা চিত্তরঞ্জন দাস। সেখানেই তিনি এসব কথা বলেন।

চিত্তরঞ্জন উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘এখানে যারা সাংবাদিক আছো, তারা আমার ছেলের মতো। তোমরা একটু চেষ্টা করো, যেন আমার ছেলেটাকে জীবিত ফেরত পাই।’ তিনি জানান, বেশ কয়েক দিন নিখোঁজ থাকার পর পরপর দুদিন তাঁর ফোনে মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসে। তবে পরে জানা গেছে, ওই ফোনগুলো ছিল ভুয়া।

পূর্বপশ্চিমবিডি ডট নিউজ নামের অনলাইন সংবাদমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে উৎপল কাজ করতেন। সেটি বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ আছে। পোর্টালটির প্রধান সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি জানেন না কী কারণে তাঁর পোর্টালটি বন্ধ। তিনি বেশ কয়েকবার বিটিআরসিতে গেছেন। উৎপল দাসও গেছেন। তবে পোর্টালটি অচল থাকার সঙ্গে উৎপলের নিখোঁজ হওয়ার কোনো যোগসূত্র নেই বলে মনে করেন তিনি।

উৎপল মাঝেমধ্যে ফেসবুকে সংবেদনশীল বিষয়ে পোস্ট দিতেন, সেই পোস্টের কারণে তিনি কারও বিরাগভাজন হয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে পীর হাবিবুব বলেন, উৎপল কী লিখতেন, সে সম্পর্কে তাঁরা জানেন না।

সংবাদ সম্মেলনে উৎপলের বড় দুই বোন বিনীতা রানী দাস ও ববিতা রানী দাস উপস্থিত ছিলেন। দুই বোনই পুরো সময় ভাইয়ের জন্য কাঁদতে থাকেন। বিনীতা জানান, উৎপল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাঁর মা বিছানায়।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন পূর্বপশ্চিম বিডি অনলাইনের সম্পাদক খুজিস্তা নূর ই নাহরীনও।

উৎপলের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও র‍্যাবের সঙ্গে পরিবার ও পূর্বপশ্চিমবিডি অনলাইন যোগাযোগ করেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জাননো হয়।

পুলিশ বিভাগের কাছে তাঁর আকস্মিক অন্তর্ধান নিয়ে এ পর্যন্ত দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও তদন্তে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নেই।