ভালোবাসার নজির গঙ্গা-যমুনা

একবিংশ শতাব্দীতে এসে মানুষের ভালোবাসার আয়ু নাকি খুব দ্রুত কমে যাচ্ছে। কথাটা মিথ্যা প্রমাণ করে অনন্য এক ভালোবাসার নজির স্থাপন করে চলেছেন গঙ্গা-যমুনা ও তাদের স্বামী জসিমউদ্দিন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বসিরহাটের ৪৫ বছর বয়সের গঙ্গা-যমুনা মণ্ডলের কোমরের নিচ থেকে শরীরের অংশ এক হলেও মাথা দু’টি আলাদা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তাদের কনজয়েন্ড টুইনস বা জোড়াযমজ বলা হয়। তারা জোড়াযমজ, কিন্তু ভালোবাসার মানুষ তাদের একজনই। সেই মানুষটি তাদের স্বামী জসিমউদ্দিন।

গঙ্গা-যমুনা জানান, তাদের মগজ ও মন আলাদা হতে পারে। কিন্তু তারাও একজনকেই ভালোবেসেছেন। কারণ, তাদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কখনই কথা তোলেননি তাদের স্বামী। বরং ভালোবেসে আগলে রেখেছেন।

তাদের স্বামী জসিমউদ্দিন জানান, বিয়ের পর থেকে গঙ্গা-যমুনার সঙ্গে সুখেই কেটেছে তার জীবন। ওদের সঙ্গে সংসার করতে গিয়ে প্রতিদিন একটু একটু করে তিনি অনুধাবন করতে পেরেছেন যে, ভালোবাসা কোনো বাধা মানে না। মেলায় মেলায় ঘুরে কেটে যাচ্ছে জীবন। বাড়িতে প্রতিদিনকার জীবনে তার অর্থাভাব ছিলো না কখনই।

তিনি জানান, তার যে সব গান ভালো লাগে, গঙ্গা-যমুনারও সেগুলোই ভালো লাগে। তার যে সব সিনেমা দেখতে ভালো লাগে, ওদেরও তাই ভালো লাগে।