রোহিঙ্গাদের নিয়ে সু চির পরিকল্পনা

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি রাখাইনে রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের পুনর্বাসনে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। একটি বেসামরিক এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করে বিদেশিদের সাহায্যে রোহিঙ্গাদের পুর্নবাসনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি

সু চির খুবই ঘনিষ্ঠ এক উপদেষ্টা শনিবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে তিনি দেখাতে চান যে সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে পরিচালিত সরকারের চেয়ে বেসামরিক সরকার মানবিক সহায়তা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে বেশি কার্যকর। রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে নিরবতায় বিশ্বব্যাপী সমালোচিত নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সু চির এই পরিকল্পনার কথা জানা গেল। রাখাইনে সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরুর পর কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সাম্প্রদিক দিনগুলোতেও রোহিঙ্গাদের ঢল অব্যাহত রয়েছে।

সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, বাংলাদেশের কক্সবাজারের শিবির গুলোতে ৫ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। আর আগে থেকেই সেখানে অন্তত ২ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। সু চির ওই উপদেষ্টা বলেন, নিজে দেশের এই সংকটে গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছেন। এবং সমস্যা সমাধানে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ। তবে পরিস্থিতির যাতে আরও অবনতি না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হচ্ছে তাকে।

তিনি যা দেখেছেন তাতে হতভম্ভ হয়ে পড়েছেন- এমন দাবি করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই উপদেষ্টা বলেন, ‘তার একটাই চিন্তা। কেমন করে এই সংকট দূর করা যায়। কেমন করে সেনাবাহিনীর কাছ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম, সমন্বয় আর পুননির্মাণের ক্ষমতা বেসামরিক সরকারের হাতে দেওয়া যায়।’ গত বৃহস্পতিবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অং সান সু চি বলেন, ‘আমাদের দেশ নিয়ে প্রচুর সমালোচনা রয়েছে। আমাদের আন্তর্জাতিক মতামত বুঝতে হবে। যাইহোক, আমাদের দেশের পরিস্থিতি আমরা যেভাবে বুঝি সেভাবে কেউ বুঝতে পারে না। আমাদের চেয়ে বেশি কেউ শান্তি আর উন্নয়ন চাইতে পারে না।’

সামরিক বাহিনীর সমালোচনা না করায় অনেক সাবেক জোটসঙ্গি সু চির উপর ক্ষুদ্ধ হলেও ওই উপদেষ্টা বলেছেন, তিনি একটি চমৎকার পথে হাঁটছেন। তিনি জানেন তার সরকার যেকোন মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর উৎখাতের মুখে পড়তে পারেন। নতুন প্রস্তাবে সু চি বলেছেন, তিনি ত্রাণ বিতরণ ও পুর্নবাসন প্রক্রিয়ার জন্য একটি নতুন বডি গঠন করবেন। যাতে অংশ নেবেন মানবিক সহায়তা সংগঠন, ব্যবসায়ী নেতা আর সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ জানিয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে জাতিগত নিধনে নেমেছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এসব রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৯০ ভাগই হলো নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মতে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে শিশু রয়েছে শতকরা ৬০ ভাগ। এর মধ্যে ১১শ’র বেশি রোহিঙ্গা শিশু পরিবার ছাড়া অচেনাদের সঙ্গে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। আর এসব শিশুর চোখের সামনেই তাদের বাবা-মাকে গুলি ও জবাই করে হত্যা, মা-বোনদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ঘর-বাড়িতে আগুন দেওয়াসহ ইতিহাসের নৃশংসতম ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে মিয়ানমারের সেনারা।