নীল তিমির হাতে আরও একটি প্রাণনাশ, ঢাকার পথে রক্তাক্ত নিথর দেহ

‘ব্লু হোয়েল’ গেম বর্তমানে একটি আতঙ্কের নাম। এই গেমটি খেলতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে অনেক তরুণ তরুণী। গেমের শেষ মুহূর্তে মাদকের মাধ্যমে মস্তিষ্ক বিকল করে দিয়ে আত্মহত্যা করার নির্দেশ দিল সে অনুযায়ী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয় তারা। সম্প্রতি ঢাকার সদরঘাট এলাকায় ইন্টারনেটভিত্তিক প্রাণঘাতি ‘ব্লু হোয়েল’ গেমের প্রভাবে প্রাণ হারিয়েছে এক কিশোর।

প্রাণঘাতী এই ‘নীল তিমির’ পাল্লায় পড়ে বিশ্বব্যাপী তরুণ তরুণীদের আত্মহত্যার প্রতি ঝোঁক ক্রমশই বেড়ে চলেছে।  রাজধানীর কোতোয়ালি থানাধীন সদরঘাট এলাকায় রাকিব (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন। রক্তাক্ত দেহে সদরঘাটের পথে নিথর হয়ে পড়ে আছে এক কিশোর। রাত (১৩ অক্টোবর) ১০টার দিকে একটি মৃতদেহ রাস্তায় পড়ে আছে এমন সংবাদে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ,বি,এম মশিউর রহমান জানান, সদরঘাটের কোনো এক ভবন থেকে পড়ে রাকিবের মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায় মল্লিক টাওয়ারের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে।

তিনি জানান, মৃত ব্যক্তির কাজ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে, তার মৃত্যু জন্য কেউ দায়ী নয়।

পুলিশের ধারণা, ভবন থেকে রাকিব লাফিয়ে পড়ে আত্নহত্যা করেছে। সে শরিফ মার্কেট এলাকার একটি দোকানে চাকুরি করতো। তার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। তার মৃত্যুর কারণ পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই মনে করেন তার মৃত্যুর জন্য “ব্লু হোয়েল” গেমটি দায়ী। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মিটফোট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জীবননাশের নেশায় যেন মত্ত হয়ে রয়ছে কিশোর কিশোরীরা।

ব্লু ওয়েল গেমটি খেলতে গিয়ে শেষ ধাপে অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের থেকে আত্মহত্যার নির্দেশ পায় এই গেম এর প্লেয়াররা। রেজিস্টার করার পর প্রথমে কিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন টাস্ক দেওয়া হয়। যত দিন যায়, এই টাস্ক আরও বিভৎস হতে থাকে। দাড়ি কাটার রেজার বা ব্লেড দিয়ে শরীরে নীল তিমির ছবি বানাতে বলা হয় টাস্কে। গোটা দিন ভৌতিক ছবি দেখতে বলা হয়। এভাবেই ৫০তম দিনে ভোর সাড়ে ৪টার সময় ঘুম থেকে উঠে কোনো উঁচু বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিতে বলা হয় গেমারদের।

যারা ব্রেন-ওয়াশ করে কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিচ্ছে। এই গেমটি বাংলাদেশেও প্রবেশ করেছে। তাই আপনার  কিশোর-কিশোরী ভাইবোন, ছেলে-মেয়েদের সাবধান ও সচেতন করুণ এই মরণ ফাঁদ সম্পর্কে।