কেন প্রতিদিনই কেঁদেছেন রোনালদো?

বড় ফুটবলার হওয়ার বাসনা রোনালদোর মনের মধ্যে ছিল অনেক আগে থেকেই। সেই লক্ষ্যপূরণে মাত্র ১১ বছর বয়সে স্পোর্তিং লিসবনের একাডেমিতে যোগ দিয়েছিলেন। এত ছোট বয়সে পরিবার ছেড়ে বাইরে থাকার যন্ত্রনা তো ছিলই, কম উচ্চতা আর টিংটিঙে শরীরের জন্য প্রতিনিয়ত কটু কথা শুনতে হতো বর্তমান রিয়াল তারকাকে।

বিশ্বের অন্যতম দামী ফুটবলার, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে এখন এক নামে চেনে সবাই। তবে একদিনেই কিন্তু ফুটবলের এই সিংহাসনে চড়ে বসেননি পর্তুগীজ যুবরাজ। একটা সময় তাকেও দিন কাটাতে হয়েছে অনেক কষ্টে। উঠে আসতে হয়েছে ধীরে ধীরে। ক্যারিয়ারের শুরুতে কোচের সঙ্গে সতীর্থদের ব্যঙ্গ-কৌতুকে জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল তার। রোনালদো নিজেই জানালেন, কষ্ট সইতে না পেরে প্রায় প্রতিদিনই নাকি কাঁদতেন তিনি।

`দ্য প্লেয়ারস ট্রিবিউন’-এ নিজের সেই কষ্টের দিনগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে রোনালদো বলেছেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই আমি কাঁদতাম। আমি কিন্তু পর্তুগালেই ছিলাম। তবুও মনে হতো যেন অন্য দেশে আছি। ভাষার উচ্চারণ এমন, মনে হয় আলাদা ভাষা। আলাদা সংস্কৃতি। কাউকে চিনতাম না, খুব একা লাগতো। আমার পরিবার প্রত্যেক চার মাস পর একবার দেখা করার সুযোগ পেতো। তাদের ভীষণ মিস করতাম, যেটা প্রতিটি দিন আমাকে যন্ত্রণা দিতো।’

তবে যে যাই বলুক, নিজের উপর আত্মবিশ্বাসটা কখনোই হারাননি রোনালদো। রিয়াল সুপারস্টার জানালেন, ‘১৫ বছর বয়সে অনুশীলনের সময় আমার সতীর্থদের ফিরে তাকাতে বাধ্য করেছিলাম। এখনও স্পষ্ট মনে আছে। ওদের বলেছিলাম, একদিন আমি বিশ্বসেরা হব। ওরা হেসেছিল কথাটা শুনে। তখন আমি স্পোর্তিংয়ের মূল দলেও সুযোগ পায়নি, কিন্তু বিশ্বাস ছিল আমার।’

সেই বিশ্বাসই আজ বিশ্ব ফুটবলকে উপহার দিয়েছে এক ফুটবল জাদুকর। প্রতিদিন কেঁদে চোখ ভাসানো ছেলেটিই এখন চার চারটি ব্যালন ডি অর ট্রফির মালিক!

ছোটবেলা থেকেই ভালো খেলতেন; কিন্তু সেদিকে নজর না দিয়ে তাকে খোঁচাতেই ব্যস্ত থাকতেন কোচ, সতীর্থরা। লিকলিকে শরীরের ছিলেন বলে ছোট্ট রোনালদোকে কটাক্ষ করে তারা বলতেন, ‘সব ঠিকই আছে, তবে ছেলেটা খুব ছোট।’