দিনাজপুরে আগাম জাতের ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

দিনাজপুরে আমন মৌসুমের আগাম জাতের ধান উঠতে শুরু করেছে। এবারে বন্যায় প্রায় পঞ্চাশ হেক্টর জমির ধানের চারা নষ্ট হয় গেছে। তবে ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকেরা বলছে বন্যার কারনে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবে। এদিকে চালের বাজার বেশি থাকায় সংস্লিষ্টরা মনে করছে ধানের দাম কমলে চালের বাজারে এর বেশ প্রভাব পড়বে।

দিনাজপুর জেলায় এবার আমন মৌসুমে ২লক্ষ ৫৬হাজার ৭শ ১০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম ধানের জাত রোপন করা হয়েছিল ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে। বাংলাদেশ ধান গবেষনার উদ্ভাবিত ধান ব্রি ধান-৩৩, ব্রি ধান-৫৬, বিনা-৭ সহ হাই ব্রীড ও কোট্রা পারি ধান আগাম জাতের হওয়ায় ইতি মধ্যে কর্তন করা শুরু হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী আগামা জাতের ধানের মধ্যে হাই ব্রীড ধান বেশি চাষ করা হয়েছে। এই ধানের ফলন পাওয়া গেছে ৩ দশমিক ৬৬ মেট্রিক টন চাল প্রতি হেক্টরে জমিতে। এবার বন্যা সহ নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও ভাল ফলন পেয়ে কৃষকেরা বেশ খুশি। ধানের বাজার ভালো থাকায় বেশ লাভবান হচ্ছে তারা। আবার ধান কাটার সুবিধার্থে শীষ থেকে ধান ঝরে না পরে সে জন্য নেয়া হচ্ছে বিশেষ পদ্ধতি।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা ডেইলী মেইল২৪ কে জানান, উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্প সময়ের ধান কৃষকদের চাষ করতে বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। এবার বেশ ফলন পাওয়া গেছে। তবে উচ্চ ফলনশীল ধান গুলো উঠতে আরো সপ্তাহ খানেক সময় লাগবে।

অটো মিল মালিক গ্রুপে এক নেতা বলছেন, বাজারে নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে। সে করনেই ধানের দামের সাথে সাথে চালের মূল্য কিছুটা নি¤œমূখী। তবে ধানের বাজারে সরকারের নজরদারী বাড়ানো পরামর্শ দিলেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এই বছর দিনাজপুর জেলায় আমন ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭লক্ষ ৫হাজার ৩শ ১১ মেট্রিক টন।

ফখরুল হাসান পলাশ, দিনাজপুর প্রতিনিধি