তাজমহল নিয়ে বিতর্ক!

প্রচলিত প্রবাদ ‘চেনা বামুনের পইতা লাগে না’ এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মুখ বাঁচানোর ঢাল। তাজমহল নিয়ে উত্তর প্রদেশ সরকার যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে, পরিচিত এই প্রবাদই তার জবাব।

সরকারিভাবে অবশ্য কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রণালয় এই বিতর্কে ঢুকতে চাইছে না। মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আলফোনস কান্নানাথন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র গত বুধবার বলেছেন, ভারতে প্রতিবছর যত বিদেশি পর্যটক আসেন, এখন পর্যন্ত তাঁদের প্রধান আকর্ষণ তাজমহল।

শুধু তা-ই নয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্রের মতে, রাষ্ট্রীয় সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রনায়কদের পর্যটনের তালিকার প্রথম নামটিই তাজমহল। অতএব, উত্তর প্রদেশের পর্যটন বিভাগের পুস্তিকায় তাজমহল থাকল কি না, তাতে তাজমহলের মাহাত্ম্য ও কৌলীন্য বিন্দুমাত্র কমবে না।

আয়তন ও জনসংখ্যার বিচারে ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশের পর্যটন বিভাগের নতুন পুস্তিকায় দ্রষ্টব্য হিসেবে তাজমহলের নাম না থাকায় দেশজুড়ে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। বিস্ময় বিদেশেও। সৃষ্টি হয়েছে বিতর্কও। কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রণালয় অবশ্য এই বিতর্কে না গিয়ে এটাই বুঝিয়ে দিয়েছে, তাজমহলের গুরুত্ব চিরকালীন।

দক্ষিণপন্থী বিজেপির উত্তর প্রদেশে ক্ষমতায় আসা এবং গেরুয়াধারী যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে এই পুস্তিকা প্রকাশিত হয়। তাতে রাজ্যের পরিচিত ও নতুন পর্যটনকেন্দ্রগুলোর এক তালিকা ছাপা হয়েছে। সেই তালিকায় গোরক্ষপুরে আদিত্যনাথ যে মন্দিরের পুরোহিত তার উল্লেখ থাকলেও পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম তাজমহলের নামগন্ধ নেই! বিস্ময় ও বিতর্ক এ নিয়েই।

বিতর্কের কারণ, মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথসহ কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা মনে করেন, হিন্দু মন্দির ভেঙে তাজমহল তৈরি হয়েছিল। গত জুন মাসে মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ এ কথাও বলেছিলেন, তাজমহল ভারতীয় সংস্কৃতির অঙ্গ নয়। প্রশ্ন উঠেছে, কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা কি তাহলে তাজমহলের গুরুত্ব কমিয়ে দেবেন?

বিতর্কের মুখে উত্তর প্রদেশ সরকার বোঝাতে চাইছে, এই পুস্তিকায় পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে নতুন কেন্দ্রের উল্লেখ করা হয়েছে। তা ছাড়া, এটি পর্যটনের কোনো গাইড বই নয়।