নদী রক্ষায় নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতি নেই: আব্দুল মতিন

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন বলেছেন, ‘সরকারের নদী নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতি নেই। নদী রক্ষায় নেই কোনো আইন। হাইকোর্টের রায় আছে নদী রক্ষার্থে। কিন্তু সরকার ও প্রভাবশালীরা সেটা মানছে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ‘নদীর অধিকার-নদীতে অধিকার’ বিষয়ক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

আব্দুল মতিন বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালীরা চাইছেন না নদী রক্ষা করতে। সরকারের দুর্বলতার কারণে প্রভাবশালীরা নদী রক্ষায় বাধা দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই আয়োজক সংগঠনের ম্যানেজার শসসের আলী বলেন, মানুষের অমানবিক কাজে নদী মরে যাচ্ছে। ক্ষুণ্ন হচ্ছে পানি ও নদীর অধিকার। পানির সংকটের ফলে নদীপাড়ের মানুষ জীবিকা হারাচ্ছে।

অলোচনায় অংশ নিয়ে নদী বিষয়ক আইন বিশেষজ্ঞ হাসনাত কাইয়ূম বলেন, বাংলাদেশে কয়েক’শ নীতি আছে। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, কোনো নদী নীতিমালা নেই। ফলে নদীকে যে যার মত করে হত্যা করছে।

বাংলাদেশে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, নদীর নায্যতা রক্ষা করতে হবে। আঞ্চলিক রাজনীতির কারণেও নদী নির্যাতিত হচ্ছে। আমি ব্যারেজের বিরুদ্ধে, ফারাক্কা বাঁধ ভেঙে দেয়ার পক্ষে। যদি নদীকে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে পারি, তাহলে সমস্যার অনেকাংশেই সমাধান হবে। নদী রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করেন। আমি সবসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানাই।

নদীর এই পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্য টিপু সুলতান বলেন, ‘নিজেদের স্বার্থে নদীর উপর অত্যাচার করি। যে নদী আমাদের বাঁচিয়ে রাখছে, সেই নদীকে আমারা দখল করছি। মেরে ফেলছি। ভোটের রাজনীতির কারণে জনপ্রতিনিধিরা অনেক সময় নদী রক্ষায় প্রতিবাদ করতে পারি না।

নদী রক্ষায় সরাকারি কাঠামো নিয়ে কথা বলেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য শারমিন মুরশিদ। তিনি বলেন, দেশের নদী ও পানির অধিকার রক্ষায় নদী কমিশন করা হয়েছে। তবে দুঃখজনক, নদী কমিশন এখন একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠান। গেল তিন মাস ধরে চেয়ারম্যান নেই। এটি একটি অসম্পূর্ণ কাঠামোর মধ্যে রয়েছে। গবেষণা ও কাজের জন্য নেই পর্যাপ্ত বাজেট। ফলে নদীর জন্য কাজ করতে পারছে না কমিশন।

তিনি আরও বলেন, নদী বাঁচাতে গবেষণায় জোর দিতে হবে। বাড়াতে হবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা। নদীর জন্য আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত দুর্বল। নিজেরা যখন নড়বড়ে কাজ করি, তখন আন্তর্জাতিকভাবে আমরা দুর্বল হয়ে যাই। নদী বাঁচাতে তাই আন্তর্জাতিক শক্তিশালী কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, দুঃখের বিষয় হলো নদী নিয়ে যথাযথ পরিসংখ্যান নেই। বাঁধগুলো নদীর জন্য ক্যান্সারের মতো। দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র বাঁচাতে নদী রক্ষা করতেই হবে। তাই শক্তিশালী করতে হবে নদী কমিশনকে। প্রয়োজন আলাদা মন্ত্রণালয়ের।

একশন এইড বাংলাদেশের পরিচালক আসগর আলী সাবরি বলেন, নদীর নিজস্ব একটা অধিকার আছে। সেটা রক্ষা করতেই হবে। তা না হলে ইতিহাস, কৃষি, অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই আইন, কাঠামো ও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে নদী রক্ষা করতেই হবে।