সন্তানের দিকে তাকিয়ে এতদিন সংসার করেছি: বাঁধন

 আনুষ্ঠানকিভাবেই ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর ডিভোর্স হয়ে গেছে অভিনেত্রী বাঁধনের। বিষয়টি এতদিন গোপন ছিলো কেবল বাঁধনের দাম্পত্য জীবন ভালো যাচ্ছে না খবরের আড়ালে।

বাঁধনের নামে নানা ধরনের অভিযোগ আনেন সনেট। তিনি  বলেন, ‘মিষ্টি হাসির মুখোশের আড়ালে লোভী, সুকৌশলী নারী বাঁধনের প্রেমে পড়েছিলাম আমি। বাঁধনের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ওর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। সেটা ছিলো আমার জীবনের জন্য দারুণ অশুভ এক ক্ষণ।

বনানীর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ২০০৮ সালে পরিচয় ঘটে বাঁধনের সঙ্গে। হুট করেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেই আমরা। বাঁধনের বাবা আমাকে দেখতে আসেন। পছন্দ হলে বিয়ের দিন ঠিক হয়। আমি বাঁধনকে বিয়ে করছি শুনে বাঁধনের  কাজিন, যে আমাকে তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো সে অনুরোধ করলো বিয়েটা যেন না করি। বাঁধন লোভী মেয়ে, তার মধ্যে ঝামেলা আছে। কিন্তু আমি এসব শুনিনি। শোবিজে কাজ করে এমন অনেক পরিচিত লোক আমাকে না করেছিলো বিয়েটা করতে। কিন্তু আমি ওর প্রেমে অন্ধ ছিলাম। চেয়েছিলাম, ওকে নিয়ে সংসার করে সন্তান-সুখে আনন্দে থাকবে জীবনট। ভাবতেই পারিনি, এমন সুন্দর একটা মেয়ে এতোটা ধ্বংস করে দেবে আমাকে।’

বাঁধন প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা হাত খরচ চাইতো দাবি করে সনেট বলেন, ‘বিয়ের পর ও আমাকে গ্রাস করতে থাকে। নানাভাবে মানসিক অত্যাচার করতে থাকে। সব ব্যায় মিটানোর পরও সে প্রতি মাসে সে হাত খরচের জন্য ১ লাখ টাকা চাইতো আমার কাছে। এটা দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিলো না। আমার কিছু বিজনেস ছিলো। সেগুলোতে পার্টনারশিপ চাইতো বাঁধন। আমি বলতাম, এগুলো দিয়ে কী হবে। যা কিছু আমার সবই তো তোমার। তবুও সে কথা শুনতো না। এইসব নিয়ে প্রায়ই আমাদের ঝগড়া হতো।’

সেই ঝগড়ার জের ধরেই বিচ্ছেদ হয়েছে দাবি করে সনেট বলেন, ‘ঝগড়া করে বাঁধন চলে যায় তার বাবার বাসায়। তখন আমরা ভাড়া বাসায় গুলশানে থাকতাম। কিছুদিন পর সবকিছু মীমাংসা হলে আমাকে প্রেশার দিতে থাকে আমি যেন মিরপুরে ওর বাবার বাসায় গিয়ে থাকি। আমার বন্ধু-বান্ধবরা সবাই আমাকে না করেছিলো। কিন্তু সুখের দাম্পত্যের আশায় আমি বাঁধনের কথায় তাদের বাসায় গিয়ে উঠলাম।

সেই বাসায় যাবার পর সেখানে আমার প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ হয়েছে একটি আনরেডি ফ্ল্যাটকে তৈরি করে সেটিকে নতুন করে গুছাতে। বাসার ছাদে সুইমিং পুলও করেছিলাম। কিন্তু প্রতিনিয়তই ঝগড়া হতো। বাঁধন আমাকে ডিভোর্স দেবে বলে শাসাতো। একপর্যায়ে আমি বাধ্য হয়ে ডিভোর্সের আবেদন করি। কিন্তু সেটি গ্রহণ হয়নি। তার দুই-তিনদিন পরই সে আবেদন করে। এবং তার আবেদনেই ছাড়াছাড়ি হয় আমাদের। সেই বাসায় আমার লাখ লাখ টাকার ফার্নিচার, একটা পিয়ানোসহ আরও অনেক কিছুই ছিলো। সবকিছু রেখে আমাকে এক কাপড়ে বের করে দিয়েছিলো বাঁধন ও তার পরিবার।’

দম ফেলে সনেট আরও বলে যান, ‘খবর পেয়েছি আজকাল বাঁধন বেশ কিছু বেপরোয়া নতুন মডেল-অভিনেত্রীদের সঙ্গে মিশছে। নানারকম পার্টিতে যায়, রাত অব্দি থাকে। হৈ চৈ করে। আমি পরে জেনেছি আগেও সে একটি বিয়ে করেছিলো। সেই সংসার থেকে অনেক অর্থকড়ি নিয়ে চলে এসেছিলো। মেয়েটাকে বিয়ে করার আগে বুঝতেই পারিনি ও এমন হতে পারে।’

এদিকে স্বামী ও স্ত্রী দুজনের কাছ থেকে ডিভোর্সের কারণ হিসেবে পাওয়া গেল আলাদা আলাদা অভিযোগ। তবে কেন্দ্রবিন্দু একটাই। সেটি ছিলো আর্থিক সমস্যা।

এদিকে বাঁধন বললেন সম্পূর্ণই ভিন্ন কথা। তিনি দাবি করেন, ‘আমি কখনোই সনেটকে শিল্পপতি ভাবিনি, সেসব ভেবে বিয়েও করিনি। এটা আমাদের চারপাশের সবাই জানে। ও আসলে ব্যার্থ একজন পুরুষ ও স্বামী। সংসার চালাতে সমর্থ ছিলো না। মাসের ১৫ তারিখ যেতে না যেতেই বলতো হাতে টাকা নেই। সংসারটা কীভাবে চলে? আমাকে বলতো অভিনয় করো। কিছু টাকা আসবে। খুব রাগ লাগতো তখন। আসলে ও টাকা রাখতে পারতো না। তাই আমি বলতাম, টাকা আমার হাতে দেবে। আমি খরচ করবো। যেকোনো স্ত্রীই এটা বলতে পারে যদি সেই মেয়ে জানতে পারে যে তার স্বামী সংসার চালাতে অক্ষম।’

আগের বিয়ে প্রসঙ্গে বাধন বলেন, ‘ও প্রচণ্ড মিথ্যেবাদী একটা লোক। ওকি জানতো না যে আমার আরেকটা বিয়ে হয়েছিলো ওর আগে। অবশ্যই জানতো। কেননা, আমি নিজে তাকে সেটি বলেছিলাম। আমি একজন অভিনেত্রী। চাইলেও নিজের জীবেনর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো লুকাতে পারি না। কোনো না কোনোভাবে জেনেই যায় সবাই। এই যে আমি এত চেষ্টা করলাম বিচ্ছেদ লুকিয়ে রাখতে মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে, সেটি কী পেরেছি। পারিনি। তবে কেন বিয়ের কথা লুকাবো আমি।

নিজে ওকে বলেছিলাম আগের বিয়ের কথা। আমাদের বিয়ের পর গণমাধ্যমে নিউজও হয়েছে, আমার ও সনেটের- দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। সে ভুলে গেলেও পত্রিকার আর্কাইভে কিন্তু রয়ে গেছে সব।’বাঁধন আরও বলেন, সংসার খরচের টাকা-পয়সা নিয়েই প্রথম ঝামেলা হয় এই দম্পতির। সে থেকে মনোমালিন্য করে বাবার বাড়ি চলে যান বাঁধন। এটি বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই। অবশেষে পারিবারিক মধ্যস্থতায় আপোষ হলে বাঁধনের বাবার বাড়িতেই গিয়ে উঠেন সনেট। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না এই সংসারের। ২০১৪ সালের ১০ আগস্ট সনেটের কাছ থেকে ডিভোর্স চেয়ে আবেদন করেন বাঁধন।