মিয়ানমার আবারও বিনিয়োগ ঝুঁকিতে

অর্থনীতিবিদদের ধারণা ছিল শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির কল্যাণে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ও বিদেশি বিনিয়োগ দুই-ই বাড়বে। কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সু চির অবস্থানও প্রশ্নবিদ্ধ। এ অবস্থায় মিয়ানমারের ইমেজ নিয়ে শঙ্কিত পশ্চিমা বিনিয়োগকারীরা। নতুন করে বিনিয়োগে তাঁরা আস্থা পাচ্ছেন না।

ইয়াঙ্গুনভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ফেয়ারক্যাপ পার্টনারসের ব্যবস্থাপনা প্রিন্সিপাল লুইস ইউয়াঙ্গ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি পানীয় ও খাদ্য কম্পানি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে মিয়ানমারের মার্কেটে প্রবেশের পরিকল্পনা স্থগিত করেছে। তারা কারণ হিসেবে দেখিয়েছে, ধীরগতিতে সংস্কার এবং রোহিঙ্গা সংকট। তারা বলছে, বিনিয়োগের জন্য এটি সঠিক সময় নয়।’

গত জুন মাসে মিয়ানমারের কর্মকর্তারা যখন ইউরোপের ছয় দেশ সফরে গেলেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল ইউরোপীয়রা তাঁদের পরিবহন, জ্বালানি ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাবে। কিন্তু তাঁরা আহ্বান জানানোর আগে তাঁদেরই ইউরোপীয় কর্মকর্তারা আহ্বান জানালেন রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ করার জন্য। তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে রাখাইনের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কী আচরণ করা হচ্ছে, তারা কেন দলে দলে বাংলাদেশে আসছে।  ইয়াঙ্গুন সিটি ডেভেলপমেন্ট কমিটির সেক্রেটারি হেলেইঙ্গ মো উ ইউরোপে ১৬ দিনের সফর শেষে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘প্রতিটি দেশেই রোহিঙ্গা ইস্যুটি তোলা হয়েছে।’

মূলত জুন থেকেই নাটকীয়ভাবে রাখাইন অঞ্চলে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। সেনাবাহিনী কর্তৃক মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর ভয়াবহ হামলা শুরু হলে প্রাণ বাঁচাতে মানুষ বাংলাদেশের দিকে ছুটে আসে। ওই সময় থেকে এ পর্যন্ত ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। জাতিসংঘ যেটিকে ‘সংখ্যালঘু নিধন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

মিয়ানমারে দীর্ঘ ৪০ বছরের সামরিক শাসনে দেশটিতে পশ্চিমা বিনিয়োগ খুব কমই এসেছে। কিন্তু ২০১১ সালে দেশটি গণতন্ত্রে ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত হওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো তাদের আরোপিত অবরোধ তুলে নিতে থাকে এবং বিনিয়োগও আসতে থাকে। আশা করা হয়েছিল মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশটিতে বিনিয়োগ বাড়বে।

নতুন করে সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় সে সম্ভাবনা আবার থমকে গেল।