চার দিনেও সাগর হত্যার মূল আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চুরির অভিযোগে কিশোর সাগরকে (১৬) খুঁটিতে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা মামলার মূল আসামিদের কাউকে চার দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাঁদের গ্রেপ্তার ও বিচারের জন্য বিভিন্ন মহলে জোর দাবি উঠেছে। এই দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করেছে প্রথম আলোর ময়মনসিংহ বন্ধুসভা।

এরই মধ্যে সাগরদের বাসায় গভীর রাতে অচেনা ব্যক্তিরা এসে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাগরের মা হাসিনা খাতুন। তবে ওই ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচয় বা টাকা দেওয়ার উদ্দেশ্য জানাননি।

গত সোমবার ভোরে পানি তোলার মোটর চুরির অভিযোগে গৌরীপুর উপজেলার চর শ্রীরামপুর গ্রামের গাউছিয়া হ্যাচারিতে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে সাগরকে হত্যা করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে পাশের কাশবন থেকে পুলিশ সাগরের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় হ্যাচারির মালিক আক্কাস আলীসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ছয়-সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন সাগরের বাবা।

সাগরের বাবা শিপন মিয়া বলেন, ‘সাগর আর আমার সামান্য রোজগারে সংসার চলত। ছেলে মারা যাওয়ার পর আমি সংসারের খরচ জোগাড় করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।’

ওই বস্তির একাধিক নারী ও পুরুষ বলেন, বুধবার রাতে বস্তির আশপাশে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে তাঁরা দেখেছেন। তবে তাঁরা সাগরের পরিবারের খোঁজ করেননি।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ মামলাটি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কোনোভাবেই কেউ তা প্রভাবিত করতে পারবে না। আসামিরা যেখানেই থাকুন না কেন, তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে। সাগরের মায়ের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

সাগরকে নির্যাতনের প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী বুধবার বলেছিলেন, তিনি আর না মারার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু আক্কাস সবাইকে ধমক দিয়ে বলেছিলেন, মরলে মরবে; তাঁদের কী? তাঁর (আক্কাস) অনেক টাকা। মরলে পুলিশ কিনে ফেলবেন। ওই নারী আরও বলেছিলেন, মারধরের সময় সাগর চুরি করেনি বলে কাকুতি-মিনতি করলেও তাতে নির্যাতনকারীরা কান দেননি। সে একটু পানি খেতে চাইলেও তা দেওয়া হয়নি।

মূল অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হননি

পুলিশ বলেছে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সাগর হত্যা মামলার প্রধান আসামি আক্কাস আলীসহ এজাহারভুক্ত ছয় আসামির কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করা রিয়াজ উদ্দিনের কাছে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে জড়িত সন্দেহে ফজলুর রহমান নামের একজনকে গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তাঁরা বলেন, হ্যাচারিমালিক আক্কাস ও তাঁর কর্মচারী কাইয়ুম সাগরকে মারধর করেছেন।

মামলায় এজাহারভুক্ত অন্য পাঁচ আসামি হলেন আক্কাসের ভাই জুয়েল, হাসু মিয়া, ছাত্তার ও সোহেল এবং হ্যাচারির কর্মচারী কাইয়ুম।