রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে জাহাজ!

কিন্তু কীভাবে সম্ভব এটি? অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়। আসলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে জাহাজ। 

ওয়ার্টসিলা কোম্পানি বিশ্বাস করে তাদের এই উদ্ভাবণ অদূর ভবিষ্যতে মালিককে তার জাহাজ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এনে দিবে এবং একই সঙ্গে জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে এর নির্গমন সীমিত করবে। একবিংশ শতাব্দীতে বাণিজ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার এই সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে এমন প্রযুক্তি আবিষ্কারের কথা চিন্তা করেছে কোম্পানিটি।

নতুন প্রযুক্তির এই জাহাজগুলোতে কোনো ক্যাপ্টেন থাকবে না এবং হাজার হাজার মাইল দূর থেকে তা মানুষ নয় কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করবে।র্তমানে ই-কমার্সের যুগে শিপিংয়ের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। কিন্তু জাহাজে সেকেলে প্রযুক্তিই রয়ে গেছে। এখনো অধিকাংশ জাহাজ ডিজেলের মাধ্যমে চলে। সড়কপথে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি চলে এসেছে কিন্তু জাহাজের ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়নি। জাহাজকে প্রযুক্তি নির্ভর করার পাশপাশি চলছে দূষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। মাত্র ১৬টা বড় জাহাজ যে পরিমাণ কার্বন নির্গমন করে তা সারাবিশ্বের সবগুলো গাড়ি একসঙ্গে বের করে। একইসঙ্গে বড় বড় কোম্পানি মুনাফা বাড়াতে চেষ্টা করছে।যেহেতু জাহাজের নতুন প্রযুক্তিতে ক্রু হিসেবে মানুষকে রাখতে হচ্ছে না তাই এগুলো অনেক খরচ বাঁচিয়ে দিচ্ছে। ফলে জাহাজের মালিকেরাও এ প্রযুক্তির প্রতি সন্তুষ্টও।

দুটি জাহাজ এ মুহূর্তে তৈরি হচ্ছে। রন ও ইয়ারা বার্কেল্যান্ড। ৮০ মিটার লম্বা বার্কেল্যান্ড কন্টেনার বহনকারী জাহাজ, যা বিদ্যুচালিত। সামনের বছর ২০১৮ এর মাঝামাঝি সমুদ্রে ভাসতে পারে এই জাহাজ।

যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়াগোতে গত মাসে একজন ইঞ্জিনিয়ার জয়স্টিক ধরে কম্পিউটারের সামনে বসে ছিলেন। আপাতদৃষ্টিতে ভিডিও গেম খেলছেন মনে হলেও তিনি আসলে জাহাজ চালাচ্ছিলেন। তিনি খুব সতর্ক দৃষ্টিতে জাহাজের দিক পরিবর্তন দেখছেন। স্কটল্যান্ডের উপকূল থেকে হাজার মাইল দূরের বিশাল বড় এক কার্গো জাহাজ চালাচ্ছিলেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসেই। ফিনিশ এনার্জি অ্যান্ড টেকনোলজি ফার্ম ওয়ার্টসিলা চার ঘণ্টার এই পরীক্ষা পরিচালনা করছিল তাদের প্রায় অর্ধেক বিশ্বের কর্মচারীদের দিয়ে।