অন্য পাঁচটা ব্যবসার মতো শেয়ার ব্যবসা নয়!

অনেকেই মনে করেন শেয়ার ব্যবসা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। ভাগ্য ভালো থাকলে এ ব্যবসায় সফল হওয়া যায় আর ভাগ্য খারাপ হলে লোকসানে পড়তে হয়। তবে সত্যি কথা হচ্ছে এ ব্যবসা অন্য পাঁচটা ব্যবসার মতো নয়। এখানে ব্যবসা করতে হলে শুধু মূলধন থাকলেই চলে না। থাকতে হয় বাজার সম্পর্কে ভালো ধারণা। সঠিক সময়ে সঠিক দামে  শেয়ার বেচা-কেনা করার দক্ষতা। একটু চেষ্টা করলে এটা সব ব্যসায়ীর পক্ষেই অর্জন করা সম্ভব।

অনেক বিনিয়োগকারী আছেন, যারা শেয়ার যে দামে কিনেছেন তারচেয়ে দর অনেক বেড়ে যাওয়ার পরও শেয়ার বিক্রি করেন না। শেয়ার ধরে রাখেন। দাম আরও বাড়াবে এমন লোভে তারা এটি করে থাকেন। সবসময় কিন্তু এই শেয়ার ধরে রাখা লাভজনক হয় না। অনেক সময়ই  সেই লাভ পরে লোকসানে পরিণত হয়। তাহলে একজন বিনিয়োগকারি কখন শেয়ার বিক্রি করবেন?

এজন্য কিছু কৌশল অবলম্বনের সঙ্গে বাজার নিয়ে স্টাডি করতে হবে। যেমন-শেয়ারবাজারে যখন দরপতন হয় বা ধস নামে, তখন বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী হুড়মুড় করে বাজার থেকে বের হয়ে যেতে থাকেন।ব্যস্ত হয়ে পড়েন লোকসানে হলেও হাতে থাকা শেয়ার ছেড়ে দিতে। এতে কি হয়? সেল প্র্রেসারে বাজার আরও পড়ে যেতে থাকে। আর বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীরা তখনই কোম্পানি বিশ্লেষণ করে সম্ভাবনাময় শেয়ার কিনে রাখে। আর বেশিরভাগ মানুষ যে শেয়ারটিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে এবং প্রচুর সম্ভাবনাময় মনে করবে সে সময়ে ওই শেয়ারটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

উঠতি বাজারে শেয়ার বিক্রি করে লাভ হাতে নেয়ার বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে। বাজারে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন হলেও অনেকেই লাভ তুলে নেন। এটি ডে-ট্রেডাররাই বেশি করে থাকেন। তারা সাধারণত ৩ দিনে শেয়ারের বেচাকেনা করেন। মৌলভিত্তি বিবেচনায় বা চলতি বাজার দরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শেয়ারের দর যদি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছে তাহলে শেয়ার ছেড়ে দেওয়াই ভালো। এই পর্যায়ে ওই কোম্পানির সব শেয়ার ধরে রাখা উচিত হবে না। আমরা তো আগেই বলেছি, সঠিক বিনিয়োগের জন্য পোর্টফোলিও তৈরি করা প্রয়োজন।আর সব সসময়ই এটি পর্যালোচনাও করতে হবে।তাহলেও বোঝা যাবে কোন শেয়ারটির কি অবস্থা।

দেশের আর্থ-সামাজিক, বা রাজনৈতিক অবস্থাও শেয়ারবাজারে প্র্রভাব ফেলে। তাই শেয়ার বেচাকেনায় এটিও বিবেচনা করতে হবে।