শুল্ক আরোপে পাটপণ্য রপ্তানিতে ধস

ভারতে পাটপণ্য রপ্তানিতে ধস।  ভারত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপের পর দেশটিতে বাংলাদেশি পাটপণ্য রপ্তানি আয় ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় পাট ও পাটপণ্য।

পাটপণ্যের রপ্তানি কমে যাওয়ায় প্রতিবেশী দেশটিতে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ও কমেছে। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ভারতে পাটসুতা, চট ওৎ বস্তা রপ্তানি করে সাড়ে ৮ কোটি ডলার আয় হয়, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪১ শতাংশ কম। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাটপণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ১৪ কোটি ৪১ লাখ ডলার। সব দেশ মিলিয়ে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৯৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি।

ভারতে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে বেশ কিছু পাটকল, যারা রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেকাংশে ভারতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান তাঁর কার্যালয়ের মাধ্যমে দেওয়া বক্তবে্য প্রথম আলোকে বলেন, এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা উদ্বেগজনক। যাঁরা রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তাঁরা খুব হতাশ ও ব্যবসায়িকভাবে দুর্দশাগ্রস্ত। তিনি বলেন, পাটকলগুলো এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। কিন্তু ধাক্কা এত বড় যে তা সামাল দেওয়া অনেকের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশি পাটপণ্যের দ্বিতীয় বড় বাজার ভারত। গত জানুয়ারি মাসে দেশটি বাংলাদেশি পাটসুতা, চট ও চটের বস্তা রপ্তানির ওপর প্রতিষ্ঠানভেদে মেট্রিক টনপ্রতি ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে। এরপরই রপ্তানি আয় কমতে শুরু করে বলে জানিয়েছেন পাটকলের মালিকেরা।