মঙ্গলময়ী দেবী দুর্গার আবাহনে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজা

মহাষষ্ঠী তিথিতে অসুর শক্তির বিনাশে ‘মঙ্গলময়ী’ দেবী দুর্গার আবাহনে গতকাল (মঙ্গলবার) শুরু হয়েছে হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আজ (বুধবার) মহাসপ্তমী। এইদিনে কলাবাগান পূজা  মণ্ডপে তিন ধাপে পালিত হয়েছে অঞ্জলী উৎসব । সকাল ১১.০০ থেকে এ উৎসব শুরু হয়। ভক্তদের  উপচেপড়া ভিড়ের কারণে প্রথম ধাপে শেষ করতে পারেনি তাই তিন ধাপে দেবীর পায়ে অঞ্জলি দিয়ে পূজার উৎসব মেতে ওঠে।

উৎসব মুখর পরিবেশে সারা দেশব্যাপী উদযাপিত হয় সবচেয়ে বড় হিন্দু ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা। তার কোন অংশে ব্যতিক্রম হয়নি কলাবাগান সহ ঢাকার অন্যান্য পূজা মণ্ডপ গুলোতে। সবগুলো মণ্ডপেই ছিল সনাতন ধর্মীয়দের সমাগম। মণ্ডপ গুলোতে চলছিল হরেক রকম মণ্ডা মিঠাইর মেলা। নানা বেশে নানা রঙে সব বয়সের মানুষ এসেছে পূজার মণ্ডপে।

মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রিয় মানুষদের সাথে একান্ত কিছু সময়য় কাটাতে পেরে সকলের মনেই বইছে আনন্দের জোয়ার। অন্য সবার মতই পূজার মণ্ডপে অঞ্জলি দিতে এসেছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম ফ্যাশন ডিজাইনার এবং পোশাক তৈরিতে দেশের অগ্রগামী একটি প্রতিষ্ঠান ‘রঙ’ এর প্রতিষ্ঠাতা বিপ্লব সাহা। ডেইলি মেইল ২৪ এর সাথে কথা বলে জানালেন পূজা মণ্ডপে এসে তার অনুভূতি কথা। সেই সাথে জানালেন ‘শারদ সাজে বিশ্ব রঙের দিদি ২০১৭’ এর গ্র্যান্ড ফিনালে এর আয়োজন নিয়ে ব্যস্ততার কথা। ‘রঙ’ এর আয়োজনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে আজ রাত ৯ টায় গুলশান-বনানী পূজা মণ্ডপে।

মহাসপ্তমীতে ১৬টি উপাদানে দেবীর পূজা করা হয়। সকালে ত্রি নয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান হবে। এরপর দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করবেন ভক্তরা। সপ্তমী পূজা উপলক্ষে সন্ধ্যায় ভক্তিমূলক সঙ্গীত, রামায়ণ পালা, আরতি, দেবীর পায়ে অঞ্জলি দিয়ে পূজার উৎসব মেতে ওঠে।

মহাসপ্তমী শেষে আসে মহাঅষ্টমী। শারদীয় দুর্গাপূজার সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ দিন। সকালের কুমারীপূজা ও রাতের সন্ধিপূজা অষ্টমীর বিশেষ আকর্ষণ। ১৬ বছরের অনুর্ধ্ব কুমারীকে দেবী মনে কুমারী পূজা করা হয়। অষ্টমী তিথির শেষ ও নবমী তিথির শুরুর সংযোগ স্থলে যে পূজা হয় তার নাম সন্ধিপূজা।

এরপর পর্যায়ক্রমে মহানবমী এবং দশমী অনুষ্ঠিত হবে। রামায়ণ যুগে রামচন্দ্র রাবণ বধের পর নবমী তিথিতে একশ আটটি নীল পদ্ম দিয়ে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন। তাই মহানবমীতে ষোড়শ উপাচারের সঙ্গে একশ আটটি নীলপদ্মে দুর্গা পূজিত হবেন। সবশেষ দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন এবং সন্ধ্যায় আরতির ধুমধামে দেওয়ার মধ্যমে শেষ হবে শারদীয়া দুর্গোৎসব। বিসর্জনের আগে দেবী দুর্গাকে বিবাহিত মহিলারা পান, তেল, সিঁদুর ও মিষ্টিমুখ করায়। সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন সবাই।