বান্দরবানে পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন কমছে, লোকসানে ব্যবসায়ীরা

বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলো উপভোগ করতে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন কমেছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ বন্যা ও পাহাড় ধ্বসকেই দায়ী করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা। প্রতিবছর ঈদ, পূজা ও যে কোন সরকারী বন্ধে বান্দরবানে বেড়াতে আসে প্রচুর পর্যটক।

কিন্তু এবারে ভিন্ন চিত্র হোটেল মোটেল গেষ্ট হাউসগুলোতে নেই কোন বুকিং শুধু এবারের পূজায় ই নয় গত কয়েক ঈদে এমন টা দেখা গেছে বান্দরবানে। ৪০% ছাড় ঘোষনা করলেও এবারে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারেনি পাহাড় কন্যা খ্যাত বান্দরবান। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের। বান্দরবানে সরকারী ও বেসরকারী ভাবে অংসখ্য পর্যটন স্পট রয়েছে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নীল দিগন্ত, চিম্বুক,প্রান্তিক লেক ও বনপ্রপাত পর্যটন স্পটটি নতুন করে সাজানো হয়েছে। এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে দেশি-বিদেশী প্রচুর পরিমান পর্যটকের সমাগম ঘটার কথা থাকলেও আশানুরূপ পর্যটকের দেখা মেলেনি।

এদিকে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পর্যটন মালিক সমিতির মতে, সরকারের বিশেষ ছুটি ছাড়াও গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত. শীত, বসন্ত ছয় ঋতুর সব সময় পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে পর্যটকের আগমন ঘটে। কিন্তু এবছর পাহাড় ধস বন্যা ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে পর্যটকের সংখ্যা একেবারেই কম। তবে লোকসান কাটিয়ে উঠতে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আরো নতুন নতুন সুযোগ সুবিধার কথা জানালেন জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বনিক।

নীলাচল, নীলগিরি,মেঘলা,শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, প্রান্তিক লেকসহ সরকারী ও বেসরকারী ভাবে অংসখ্য পর্যটন স্পট রয়েছে বান্দরবানে। কিন্তু বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার অপ্রতুলতার কারনে পর্যটন শিল্প কাংখিত লক্ষ্যে এখনও পৌঁছাতে পারেনি। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, আবাসন সংকট ও সড়ক যোগাযোগ এবং পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করা হলে প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে এবং পর্যটন শিল্প কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে বলে মনে করে পর্যটকেরা।

বান্দরবান হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান,বান্দরবানে পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগ। এতে পর্যটন শিল্প থেকে প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে সরকার। কারন সরকারের বিশেষ ছুটি ছাড়াও গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত. শীত, বসন্ত ছয় ঋতুর সব সময় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের আগমন ঘটে।

বেড়াতে আসা পর্যটকদের মতে,বান্দরবান পর্যটন শহর হিসেবে যোগাযোগসহ অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। পর্যটকদের জন্য আবাসন সংকট,খাওয়া দাওয়ার,হোটেল-মোটেল,যোগাযোগ এবং পরিবহন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোকে আরও ঢেলে সাজানো গেলে প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক আসবে।পর্যটকরা মনে করেন,দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হলে জেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আরোও শক্তিশালী করা প্রয়াজন। এতে পার্বত্যাঞ্চলের পর্যটন খাতে অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে নিশ্চিত ভাবে।সারা বিশ্বে একটি মডেল পর্যটন শহর হিসেবে পরিচিত লাভ করবে বান্দরাবন।

প্রশাসনের মতে, বান্দরবানে সরকারী ও বেসরকারী ভাবে অংসখ্য পর্যটন স্পট রয়েছে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চিম্বুক এবং প্রান্তিক লেক পর্যটন স্পটটি নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে দেশি-বিদেশী প্রচুর পরিমান পর্যটকের সমাগম ঘটবে। প্রশাসন মনে করেন,ওই খাত থেকে পাওয়া এই অর্থ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান প্রতিনিধি