বদলে যাচ্ছে ক্রিকেটের চেহারা

বদলে যাচ্ছে ক্রিকেটের নিয়ম কানুন। ব্যাট কতটা পুরু হবে, মাঠে খেলোয়াড়ের হিংস্রতার মোকাবিলায় অ্যাম্পায়ারকে কতটা ক্ষমতা দেওয়া হবে, ডিআরএস নিয়ে আরও স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। ক্রিকেট খেলাকে আরও মসৃণভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতেই বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি মঙ্গলবার একগুচ্ছ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক ম্যাচে এই নিয়ম কার্যকর হবে।

পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল জানায়, তাদের খেলার শর্তগুলিতে অনেক সংশোধনী তৈরি করার পর এই মাসের পরেই আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনে পরিবর্তন আনতে হবে।

এই পরিবর্তিত নিয়মে থাকছে ব্যাটের মাপ থেকে রান আউটের নিয়ম, ডিআরএস থেকে ক্রিকেটারদের শাস্তি। এই নিয়ম কার্যকর হবে প্রথম শ্রেণি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। যার ফলে অনেকটাই বদলে যেতে পারে ক্রিকেটের চেহারা।

ফুটবলের মতো এবার ক্রিকেটেও আসছে মাঠে নিয়ম ভাঙা খেলোয়াড়দের তাৎক্ষনিক শাস্তির ব্যবস্থা। যার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে আম্পায়ারদের হাতেই। মাঠে আচরণবিধি খুব বেশি মাত্রায় লঙ্ঘন করলে আম্পায়াররাই দোষী ক্রিকেটারকে তৎক্ষণাৎ মাঠ থেকে বহিষ্কার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ফুটবলের মতো লাল কার্ড ব্যবহার করা হবে কি না, তা পরিষ্কার করে জানায়নি আইসিসি।

তবে এমসিসির প্রাথমিক বৈঠকে লাল ও হলুদ কার্ড ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কয়েকটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ক্রিকেটারদের মধ্যে হাতাহাতি থেকে শুরু করে ব্যাট দিয়ে মাথায় আঘাত করার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে ক্রিকেটে। মূলত সেই ধরনের পরিস্থিতি ঠেকাতেই কড়া হওয়ার কথা ভেবেছে আইসিসি।

ব্যাট লম্বা এবং চওড়ার নিয়মে কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। তবে ব্যাটের কানা ৪০ মিলিমিটারের বেশি পুরু করা যাবে না। আর গভীরতা কখনওই ৬৭ মিলিমিটারের বেশি হবে না। আম্পায়ারদের হাতে মাপার ফিতে দেওয়া হবে। কোনও ব্যাট নিয়ে সন্দেহ হলে তারা পরীক্ষা করে দেখতে পারবেন।

খেলোয়াড়কে মাঠের বাইরে পাঠানো: ক্রিকেটে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তাকে বৈধতা দিতেই লেভেল ফোর নিয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষমতা ফিল্ড আম্পায়ারদের ওপর ছাড়া হচ্ছে। কোনও খেলোয়াড় আম্পায়ারকে নিগ্রহ, হুমকি, ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সংযোগ, অন্য কোনও খেলোয়াড়কে নিগ্রহ করলে লেভেল ফোর দোষে দুষ্ট হবেন। আম্পায়াররা তাৎক্ষণিরক সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই খেলোয়াড়কে বাইরে বার করে দিতে পারবেন। তবে লেভেল ওয়ান থেকে থ্রি পর্যন্ত দোষ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আইসিসির কমিটি।

ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম বা ডিআরএসের নিয়মেও বদল আসছে। রিভিউ চাওয়ার পরে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই যদি চূড়ান্ত হয়, সেক্ষেত্রে আবেদনকারী দলের রিভিউ নেওয়ার সুযোগ কমবে না। টেস্টে এবার থেকে সারা ইনিংসে দুবার করে রিভিউ নিতে পারবে দু’টি দল। টি-টুয়েন্টিতেও ডিআরএস চালু হবে বলে জানিয়েছে আইসিসি।

আর রান আউট বা স্টাম্পিংয়ের ক্ষেত্রে মাটিতে ব্যাট স্পর্শ করাটা বাধ্যতামূলক থাকছে না। মানে উইকেটে বল লাগার সময়ে ব্যাটসম্যানের ব্যাট ক্রিজে পৌঁছলেই হবে, মাটিতে ঠেকানো আবশ্যিক নয়।
পরিবর্তন আসছে ক্যাচেও। বাউন্ডারি লাইন থেকে লাফিয়ে বল ধরে মাঠের মধ্যে ছুঁড়ে দিয়ে ফিল্ডার যদি মাঠের বাইরে পা রাখেন তবে ছয় রান ধরা হবে।

বাংলাদেশ-সাউথ আফ্রিকা এবং পাকিস্তান–শ্রীলঙ্কা টেস্টে প্রথম এই নতুন নিয়মে খেলা হবে। আর ভারত–অস্ট্রেলিয়া চলতি সিরিজই পুরনো নিয়মের শেষ খেলা।

আইসিসি জেনারেল ম্যানেজার জিওফ অ্যালার্ডিক বলেছেন, ‘এমসিসি ক্রিকেটের নিয়মে যে পরিবর্তন এনেছে তাতে সম্মতি দিল আইসিসি। আমরা আম্পায়ারদের সঙ্গে ওয়ার্কশপ করে সমস্ত নিয়ম বুঝিয়ে দিয়েছি। আন্তর্জাতিক ম্যাচে এই নিয়ম প্রয়োগের মতো অবস্থায় রয়েছি আমরা।’