পাঁচ দিন কার্যক্রম বন্ধ রাখবে প্রাইম ব্যাংক

সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত সেবা দেওয়ার কথা বলে টানা ৫ দিন সব ধরনের লেনদেন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি প্রাইম ব্যাংক। ব্যাংকটির ঘোষণা অনুযায়ী, এই ব্যাংকের দশ লাখ গ্রাহককে টানা ৫ দিন ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকতে হবে। 

টানা ৫ দিন বন্ধ থাকবে প্রাইম ব্যাংক। এতে বিপাকে পড়তে যাচ্ছে ব্যাংকটির কয়েক লাখ গ্রাহক। ইতোমধ্যে বিষয়টি ব্যাংকের সব গ্রাহককে মোবাইল এসএমএসর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সাবেক সভাপতি ও  বিডিজবস.কম এর সিইও ফাহিম মাশরুর মনে করেন, প্রাইম ব্যাংকের যথাযথ পরিকল্পনা না থাকা ও ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দুর্বলতার কারণে সব ধরনের লেনদেন টানা বন্ধ করে প্রযুক্তির উন্নয়ন করতে যাচ্ছে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা রেখেই অথবা আগের সিস্টেমে চালু রেখেই প্রযুক্তির উন্নয়ন সম্ভব ছিল। হয়ত সেটা সীমিত আকারে করতে হতো।

তিনি বলেন, ব্যাংক লেনদেন এখন দৈনন্দিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা ৫ দিন এটিএম ও শাখার লেনদেন একসঙ্গে বন্ধ হলে গ্রাহকরা বিপদে পড়বেন। প্রযুক্তির উন্নয়ন করা জরুরি। তবে যথাযথ পরিকল্পনা করে প্রযুক্তির উন্নয়ন করলে ব্যাংকের শাখাগুলো এতোদিন বন্ধ রাখতে হতো না।

সাজ্জাদ নামের একজন গ্রাহক  বলেন, ‘গ্রাহকদের লেনদেনের কোনও বিকল্প না রেখে টানা ৫ দিন ব্যাংক বন্ধ রাখা মানে গ্রাহক হয়রানির শামিল। ব্যাংক লেনদেন এখন জীবনের জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় সব শাখার লেনদেন বন্ধের সঙ্গে এটিএম সেবা, ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ হচ্ছে।’ তার প্রশ্ন, ‘তাহলে কি গ্রাহক এই ৫ দিন কোনও সেবাই পাবেন না?’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এক সঙ্গে এটিএম ও সব শাখা বন্ধ করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি লাগে, তারা সেটা নিয়েছে কি না সেটা আগে জানতে হবে। অবশ্য ব্যাংকটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়েই টানা ৫ দিন বন্ধ রাখছে তারা।

ব্যাংকটির ঘোষণা অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত ৮ টা থেকে ৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত প্রাইম ব্যাংকের সব ধরণের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।