টঙ্গীবাড়ীতে পূজা মন্ডপে দূর্বত্তদের আগুন

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে মন্দিরের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সদ্য নির্মিত দূর্গা প্রতিমায় আগুন দিয়েছে দূর্বত্তরা। এতে পুড়ে গেছে দূর্গা, লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক ও গনেষ সহ প্রতিমার বেশির ভাগ অংশ।

মঙ্গলবার ভোর রাতে জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়নের শ্রী শ্রী র্সাবজনীন দূর্গা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে । এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পিপিএম, সহ টঙ্গীবাড়ী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার, এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অজয় চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, মন্দিরের পূজা কমিটির সভাপতি স্বপন দাস গংদের সাথে পূজা মন্ডপের জমি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সুখময় দাসের সাথে দীর্ঘদিন যাবত জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। সেই বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে মুন্সীগঞ্জ আদালতে উভয় পক্ষ্যের মধ্যে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে জানাযায়।
এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার ভোরে বিরোধপূর্ন জমিতে অবস্থিত ঐ মন্দিরে দূর্গা পূজার জন্য সদ্য নির্মিত প্রতিমায় আগুন ধরিয়ে দেয় দূর্বত্তরা । এ নিয়ে উভয় পক্ষ পাল্টা পাল্টি অভিযোগ তুলেছে ।

টঙ্গীবাড়ীতে পূজা মন্ডপে দূর্বত্তদের আগুন

সরজমিনে ঐ মন্দিরে গিয়ে দেখাযায়, মন্দিরের সামনে স্থানীয় জনতা ভির জমিয়েছে, ঘটনার পর পর মন্দিরটি পর্দা দিয়ে ঢেকে দিয়েছে স্থানীয় লোকজন। মন্দিরের ভিতরে গিয়ে দেখা যায় আগুনে পুড়ে গেছে প্রধান দূর্গা প্রতিমা ও দূর্গ প্রতিমার দুই পাশে থাকা বাকি প্রতিমাগুলো । এ নিয়ে কথা বলতে চাইলে স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকে কয়েকজন জানায় মঙ্গলবার ভোরে কে বা কাহারা মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে , কারা আগুন দিয়েছে একথা জানতে চাইলে কেউ মুখ খুলেনি।

এ ব্যাপারে পুজা কমিটির সভাপতি স্বপন দাস জানান, রাতের আধারে কে বা কাহার মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। সকালে আমার ছোট বোন নয়ন দাস পুজা মন্ডব পরিস্কার করতে গিয়ে দেখে কারা যেনো প্রতিমাগুলো আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলেছে। যারা চায়না পূজা হোক তারাই এ আগুন দিয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ সুখময় দাস জানান, স্বপন দাস গংরা আমার দখলিয় মন্দিরের জমি সহ আমার বাড়িটি দখলে নিতে রাতের আধারে তারা মন্দিরে আগুন দিয়ে আমায় ফাসাঁনোর চেষ্টা করছে।
এর আগে গত রবিবার প্রকাশ্য দিবালোকে তারা আমার বসত বাড়ির ৫০টি গাছ কেটে ফেলেছে। আমি ওই ঘটনায় টঙ্গীবাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। এর আগেও মুন্সীগঞ্জ আদালতে স্বপন দাস গংরা আমার বিরুদ্ধে ৪টি মামলা করেছে।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো:জায়েদুল আলম পিপিএম জানান, মন্দিরে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একজন অন্য জনকে ফাঁসানোর জন্য আগুন দিতে পারে অথবা ধূপকাঠি হতেও আগুনের সুত্রপাত হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে, দূর্গা প্রতিমায় এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় যারাই জরিত থাকুক না কেনো তাদের খুব দ্রুত আইনের আওলতায় নিয়ে আসা হবে। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত চলছে দোসি যেই হোক না কেউ ছাড় পাবে না।