ইংলাকের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

ধানে ভর্তুকির বিতর্কিত একটি প্রকল্পে দুর্নীতির মামলায় থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির সুপ্রিম কোর্টে ইংলাকের বিরুদ্ধে ধানে ভর্তুকির বিতর্কিত একটি প্রকল্পে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ কর্মসূচির কারণে দেশটিতে চালের বিশাল মজুত সৃষ্টি হয় এবং লোকসান হয় ৮০০ কোটি ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৫ আগস্ট এ মামলার রায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইংলাক আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় রায়ের তারিখ পেছানো হয়েছে। রায় হওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগে ইংলাক দেশত্যাগ করেন। পরে আদালত তাঁর জামিন বাতিল করেন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

ধারণা করা হচ্ছে, সাজা এড়াতে থাইল্যান্ড থেকে পালিয়ে দুবাইয়ে ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার কাছে গিয়েছেন ইংলাক। ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত থাকসিনও দুর্নীতির অভিযোগে কারাদণ্ড এড়াতে দেশ ছেড়ে পালান। দুবাইয়ে তাঁর একটি বাড়ি রয়েছে।

মামলার বিচার চলাকালে ইংলাক আদালতে বলেছিলেন, তিনি নির্দোষ। তিনি রাজনৈতিক হয়রানির শিকার।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ধানে ভর্তুকির কর্মসূচিটি ছিল ইংলাক প্রশাসনের প্রধান একটি নীতি। ওই কর্মসূচিতে কৃষকদের কাছ থেকে বাজারমূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দামে ধান কেনা হয়। এই কর্মসূচিটি কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় ছিল। এই কর্মসূচির কারণে দেশটিতে চালের বিশাল মজুত সৃষ্টি হয় এবং থাইল্যান্ড থেকে চাল রপ্তানি করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইংলাক ও তাঁর দল কৃষকদের ভোট পাওয়ার জন্যই বেশি দামে ধান ক্রয় করে বলে দুর্নীতিবিরোধী তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন।

২০১৪ সালের ২২ মে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার মাত্র কয়েক দিন আগে আদালতের এক বিতর্কিত আদেশে ক্ষমতাচ্যুত হন থাইল্যান্ডের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা। ২০১১ সালে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন