আত্মসমর্পণ না করে বোরকা পরে দিল্লির রাস্তায় হানিপ্রীত

ধর্ষণে অভিযুক্ত ভারতের বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিমের পালিতা কন্যা হানিপ্রীত সিংকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছে দিল্লি হাইকোর্ট। সোমবার আইনজীবীর মাধ্যমে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন হানিপ্রীত। তা খারিজ করে দেয়া হয়েছে।

আদালতের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারি এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। তাই তাকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই নেই। বিচারপতি সঙ্গীতা ধিংরা সেহগাল বলেছেন, ‘এখন একমাত্র আত্মসমর্পণ করাই হানিপ্রীতের পক্ষে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।’

ধর্ষণের অভিযোগে ডেরা সাচ্চা সওদার প্রধান গুরমিত রাম রহিমের কারাদণ্ডের পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন হানিপ্রীত। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে হরিয়ানা পুলিশ।

তাদেরই একটি সূত্র জানিয়েছে, গতকাল গোপনে দিল্লি এসেছিলেন হানিপ্রীত। লাজপত নগরে এক আইনজীবীর বাড়ির সামনে লাগানো সিসিটিভির ফুটেজে বোরকা পরা এক নারীর ছবি দেখা গিয়েছে। তার এক হাতে ব্যাগ ছিল। পুলিশ মনে করছে, আগাম জামিনের আবেদনে সই করার জন্যই দিল্লি এসেছিলেন হানিপ্রীত।

সোমবার তিনি তার আইনজীবী প্রদীপকুমার আর্যের এক সহকারীর সঙ্গে দেখা করেন। সেই তথ্যের উপরে ভিত্তি করে গতকাল সকাল সাতটা নাগাদ হানিপ্রীতের খোঁজে অভিযান চালায় পুলিশ। প্রায় এক ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েও সেখানে হানিপ্রীতের খোঁজ মেলেনি। এক রক্ষী ছিলেন শুধু সেখানে। তিনি জানিয়েছেন, ওই বাংলো ডেরারই সম্পত্তি। পঞ্চকুলার পুলিশ প্রধান এএস চাওলা বলেছেন, ‘৩০ অক্টোবরের মধ্যে হানিপ্রীত আত্মসমর্পন না করলে তাকে অপরাধী ঘোষণা করা হবে।

হানিপ্রীতের আগাম জামিনের আবেদনে নিয়ে শুনানিতে তার আইনজীবী জানান, হরিয়ানায় প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা রয়েছে তার মক্কেলের। তাই নিরাপত্তার আশ্বাস পেলে তবেই তিনি হরিয়ানায় ফিরে তদন্তে সহায়তা করতে পারবেন। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়ার সময় যাতে তাকে গ্রেফতার না করা হয় তার জন্যই ট্রানজিট বেলের (জামিন) আবেদন জানিয়েছেন হানিপ্রীত।

কিন্তু দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, হানিপ্রীতের উচিত ছিল পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে যাওয়া। কারণ, এই আবেদন শোনার এখতিয়ার ওই আদালতেরই রয়েছে। ধর্ষণের মামলায় গুরমিত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর পঞ্চকুলায় তাণ্ডবের ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৩ জনকে খুঁজছে হরিয়ানা পুলিশ। রাজস্থান থেকেও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।